আজ (মঙ্গলবার) বিকাল ৩ টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করবে বনদস্যু মাস্টার বাহিনী। র্যাব-৬ এর অধিনায়ক মো. রফিকুল ইসলামের পক্ষে মেজর সুবিদের সঙ্গে এ প্রতিনিধির কথা হলে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দস্যুতা বাদ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য মাস্টার বাহিনীর প্রধান মো. মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টারসহ ৭ বনদস্যু মংলার বিএফডিসি জেটিতে আজ (মঙ্গলবার) বিকাল ৩ টায় আত্মসমর্পণ করবে। এর আগে রোববার ভোরে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাদঁপাইরেঞ্জের চরাপুটিয়া এলাকায় ৫১টি বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় ৫ হাজার রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ তারা র্যাবের কাছে জমা দেয়। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন দাপিয়ে বেড়ানো বনদস্যু মাস্টার বাহিনী তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে মতে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আত্মসমর্পণের জন্য লিখিত আবেদন করে। তারই অংশ হিসেবে রোববার সকালে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধানসহ ৭ সদস্যের একটি দল অর্ধশত অস্ত্র ও গুলিসহ র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উস্থিতিতে রোববার দুপুরে মংলায় অনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের দিন ধার্য করা হয়। সব ধরনের প্রস্তুতিও ছিল তবে দুর্যোগপূর্ণ অবহওয়ার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মংলায় আসতে না পারায় ওই কর্যাক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। এলিট ফোর্স র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যুরা হলো- বাগেরহাটের মংলা উপজেলার মিঠাখালী এলাকার আব্দুল লতিফ শেখের ছেলে বনদস্যু মাস্টার বাহিনরি প্রধান মো. মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার, একই এলাকার ইসমাইল খাঁনের ছেলে মো. সুলতান খাঁন, রামপাল উপজেলার বড় কাঠালিয়া এলাকার ইউসুফ আকনের ছেলে সোহাগ আকন।এছাড়া, একই এলাকার আহাদ আলী শেখের ছেলে মো. ফজলু শেখ, শ্রীফলতলা গ্রামের সফরুল শেখের ছেলে সোলাইয়াম শেখ, খুলনার দাকোপ উপজেলার মো. মতলেব শেখের ছেলে শাহীন শেখ ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মোনাগাছার নুরুল ইসলাম সরদারের ছেলে সুমন সরদার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সুন্দরবনের গহীন অরন্যে দাঁপিয়ে বেড়ানো বনদস্যু মোস্তফা শেকের নেতৃত্বে মাস্টার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্নভাবে আত্মসমর্পণের সুযোগ খুঁজছে, এমন খবরের ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা দল তৎপরতা শুরু করে। এক পর্যায়ে মাস্টার বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে র্যাব যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ভোর ৬ টায় আত্মসমর্পণের সুযোগ নিতে বাহিনীর প্রধানসহ মাত্র ৭ বনদস্যু সুন্দরবনের চরাপুটিয়া খালে এসে তাদের ব্যবহৃত ৫১টি বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় ৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদসহ র্যাব-৮ এর কাছে আত্মসমর্পণ করে। অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, এই বাহিনী প্রধানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ওই দিন মাস্টার বাহিনীর অন্য সদস্যরা আত্মসমর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে পালিয়ে যায়।এদিকে, মাস্টার বাহিনী প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার প্রথমে বনদস্যু রাজু বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সুন্দরবনে বনদস্যুতা শুরু করে। পরে রাজু বাহিনী থেকে বের হয়ে সে নিজেই ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে মাস্টার বাহিনী গঠন করে বনদস্যুতা চালাতে থাকে। সম্প্রতি বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে র্যাবের তৎপরতায় ও ক্রসফায়ারে একের পর এক বাহিনী প্রধানসহ বনদস্যু নিহতের ঘটনায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আত্মসমর্পণের চেষ্টা চালায়। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তারা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।শওকত আলী বাবু/এসএস/পিআর