আইন-আদালত

মীর কাসেমের চূড়ান্ত রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে দেয়া আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছেছে। সোমবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে। এখন ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যু পরোয়ানা জারির প্রস্তুতি চলছে। পারোয়ানা জারির পরবর্তীতে রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে তবে রিভিউ আবেদন করার পর সেই প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী স্থগিত হয়ে যাবে। পরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কাযালয় সূত্র মীর কাসেমের আপিলের রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ডেপুর্টি রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবতী ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সহকারী রেজিস্টার মেহেদি হাসানের একটি প্রতিনিধি দল  বিকাল সোয়া ৩টার দিকে রায়ের কপি নিয়ে ট্রাইবুনালে যান। ট্রাইবুনালের বিচারকদের স্বাক্ষরসহ লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়োনা ও রায়ের অনুলিপি কারাগারে পাঠানো হবে। সকালে বিচারপতিদের স্বাক্ষর শেষে ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। গত ৮ মার্চ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালে মীর কাসেম আলীকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে ট্রাইব্যুনাল দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ একটি অভিযোগে এই দণ্ড বহাল রাখেন। আপিলে দেওয়া সেই রায়েরই পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। রায়টি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই লিখেছেন। পরে এতে স্বাক্ষর করেন অপর চার বিচারপতি বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বজলুর রহমান। নিয়ম অনুযায়ী এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। পরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে ট্রাইব্যুনাল। পরে পরোয়ানা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট চার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হবে। সেই মৃত্যু পরোয়ানা মীর কাসেম আলীকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ। আইন অনুযায়ী এখন ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবে মীর কাসেম। রিভিউতে তার আবেদন খারিজ হলে আর কোনো আইনি প্রতিকার তার থাকবে না। সেক্ষেত্রে দোষ স্বীকার করে নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন তিনি করতে পারবেন। সেই আবেদন গৃহীত না হলে সরকারের নির্বাহী আদেশে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করবেন। মীর কাসেম আলী ষষ্ঠ ব্যক্তি যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে চূড়ান্তভাবে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এর আগে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।  এফএইচ/জেএইচ/আরআইপি