কক্সবাজারের রামু উপজেলার পাহাড় ঘেরা ইউনিয়নের ঈদগড়ে মহিউদ্দিন (৫০) নামে এক পশু চিকিৎসককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত মহিউদ্দিন শফিরবিল পাড়ার ফয়েজ আহমদ মিয়াজির ছেলে।বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এলাকাবাসী জানায়, ঈদগড়ের শরিফবিল পাড়ায় বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর তৈরি করে বুধবার রাতে মহিউদ্দিন সেখানে একাই অবস্থান করেন। সেখানে বৃহস্পতিবার ভোরে দুর্বৃত্তরা তার উপর হামলা ও গুলি চালায়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈদগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান। রামু থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঈদগড়ের শরিফবিল দক্ষিণ পাড়ায় ছয় মাস আগে খুন হওয়া শিক্ষক নুরুচ্ছফা এবং তার ভাইদের সঙ্গে ৯ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল মহিউদ্দিনের। আর সে জমিতেই মহিউদ্দিন সম্প্রতি ঘর তোলেন এবং রাতে সেখানে একাই অবস্থান করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষের লোকজন তার উপর এ হামলা চালিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ প্রবাসী আসাদুজ্জানের স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে আটক করেছে।ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টো বলেন, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুটি কথা শোনা যাচ্ছে। প্রথমটি হলো, জমি নিয়ে বিরোধ চলা শিক্ষক নুরুচ্ছফাকে খুন করতে ডাকাত দলের সঙ্গে মহিউদ্দিন ১০ লাখ টাকা কন্ট্রাক করে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন। মিশন সাকসেস হলেও বাকি টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা শুরু করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কিলার গ্রুপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছিল। টাকা না দিলে তারা (ভাড়াটিয়া কিলার) তাকে খুন করবে বলে হুমকি দেয়। তারাই সুযোগ পেয়ে রাতের আঁধারে তাকে হত্যা করেছে। দ্বিতীয়টি হলো, ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নিতে নুরুচ্ছফার ভাইয়েরাও তাকে খুন করতে পারেন। সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/পিআর