খেলাধুলা

‘ব্যাটিংয়ের সময় এত জোরে চিৎকার, ক্যারিয়ারে এমন গ্যালারি দেখিনি’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলতে এসে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের স্বাদ পাচ্ছেন ইংল্যান্ডের তরুণ অলরাউন্ডার ইথান ব্রুকস। সিলেটের দর্শক, মাঠের পরিবেশ, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট- সবকিছু মিলিয়ে অভিজ্ঞতা দারুণ উপভোগ করছেন তিনি। বিপিএল, ক্যারিয়ার, অনুপ্রেরণা, বাংলাদেশি ক্রিকেট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন এই ইংলিশ ক্রিকেটার। তার চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: বিপিএলে এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতা কেমন?উত্তর: দারুণ লাগছে, সত্যিই দারুণ। এখানে সবাই অসাধারণ। দর্শকরা দুর্দান্ত, বরাবরের মতোই খুব প্রাণবন্ত। তাই হ্যাঁ, পরের ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি।

প্রশ্ন: ক্রিকেটে আপনার যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল?উত্তর: পরিবার থেকেই শুরু। আমার বাবা ও ভাইদের মাধ্যমে। আমরা বাবার খেলা দেখতে যেতাম, নেটে খেলতাম। ছোট বয়স থেকেই ক্রিকেটের মধ্যে ঢুকে পড়ি। তখন থেকেই খেলাটার প্রতি ভীষণ ভালোবাসা তৈরি হয়।

প্রশ্ন: কখন সিদ্ধান্ত নিলেন পেশাদার ক্রিকেটার হবেন?উত্তর: আসলে সেই সিদ্ধান্তটা আমার জন্য এমনিতেই হয়ে যায়। কারণ ১৮ বছর বয়সে আমি একটি পেশাদার চুক্তির প্রস্তাব পাই। তারপর থেকেই ক্রিকেট খেলে যাওয়াটা আমি ভীষণ উপভোগ করছি।

প্রশ্ন: বেড়ে ওঠার সময় কে আপনাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে?উত্তর: আমার বাবা আর আমার ভাইরা। ছোটবেলায় বাগানে তাদের সঙ্গে খেলতাম। এরপর বড় হতে হতে টিভিতে খেলোয়াড়দের দেখতাম। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফকে খেলতে দেখতে আমি খুব ভালোবাসতাম। একদিন তাদের মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন ছিল।

প্রশ্ন: ছোটবেলায় কোন ক্রিকেটারকে অনুসরণ করতেন?উত্তর: অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফকে অনেক অনুসরণ করেছি। পরে বয়স একটু বাড়ার পর ক্রিস ওকসকে। আমরা একই ক্লাবে খেলতাম। তার বোলিং অ্যাকশন দেখতেও খুব সুন্দর।

প্রশ্ন: যতদূর জানা যায়, এটি আপনার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। অভিজ্ঞতা কেমন?উত্তর: দারুণ, সত্যিই দারুণ। ক্রিকেট খুব প্রতিযোগিতামূলক। ভিন্ন কন্ডিশন, ভিন্ন বোলার-যাদের বিপক্ষে আগে কখনো খেলিনি। সব মিলিয়ে আমি এটা খুব উপভোগ করছি। নেটে অনুশীলন করছি, কোচদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখছি। আর দর্শকরা সত্যিই অসাধারণ।

প্রশ্ন: কোনো বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে অনুসরণ বা পছন্দ করেন?উত্তর: সাকিব আল হাসান। ইংল্যান্ডে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার ছিল। তিনি আমার হোম কাউন্টির হয়েও খেলেছেন। তাই তার ক্যারিয়ারটা অনুসরণ করেছি।

প্রশ্ন: ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশে খেলার কন্ডিশনের পার্থক্য কতটা চ্যালেঞ্জিং?উত্তর: পার্থক্য অনেক। ইংল্যান্ডে উইকেটে বেশি বাউন্স থাকে, গতি বেশি, স্পিন কম। এখানে উইকেট একটু লো বাউন্সের, স্পিন বেশি। তাই টেকনিকে কিছুটা মানিয়ে নিতে হয়। এখনও শিখছি। যত বেশি অনুশীলন ও ম্যাচ খেলব, ততই উপকার হবে।

প্রশ্ন: সিলেটের পরিবেশ কেমন লেগেছে?উত্তর: এক কথায় ইলেকট্রিক। শেষ ওভারে ব্যাটিং করার সময় এত জোরে শব্দ হচ্ছিল-এটাই সবচেয়ে জোরালো দর্শক ছিল যাদের সামনে আমি খেলেছি। তারা অসাধারণ।

প্রশ্ন: সবশেষ ম্যাচে শেষ ওভারে সিলেটের জয়, আপনি উইকেটে ছিলেন, গ্যালারি উত্তাল ছিল। সবমিলিয়ে অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?উত্তর: দারুণ। দর্শকরা পুরো ম্যাচজুড়ে অনেক শক্তি দিয়েছে। ম্যাচটা একটু কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিল, যেটা আমরা চাইনি। তবে শেষ পর্যন্ত জয়, তাই সবাই খুশি। তবে ব্যাটিংয়ের সময় শেষ ওভারে যত চিৎকার গ্যালারি থেকে শুনেছি। এমন কিছু আমি আগে দেখিনি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশি খাবার খেয়েছেন? কোনটা পছন্দ?উত্তর: হ্যাঁ, খেয়েছি। খাবার এখানে খুব ভালো। গতকাল ডাল আর ভাত খেয়েছি। আর মাটন খুব ভালো লেগেছে।

প্রশ্ন: বিপিএলকে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে তুলনা করবেন কীভাবে?উত্তর: এটা আমার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে এখানে বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে, ক্রিকেট খুব প্রতিযোগিতামূলক। অন্য লিগের সঙ্গে তুলনা করতে পারব না, কিন্তু এটা খুব ভালো।

প্রশ্ন: ক্রিকেট না খেললে সময় কীভাবে কাটান?উত্তর: গলফ খেলতে ভালোবাসি। এখনো পড়াশোনা করছি স্পোর্টস সায়েন্সে ডিগ্রি। প্রায় শেষের দিকে। পরিবার, বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটাই। খুব সাধারণ জীবন আমার।

প্রশ্ন: শেষ ওভারের ম্যাচে নিজে জয় না এনে আউট হয়ে যাওয়াটা কেমন লাগছিল?উত্তর: আমি মনে করি না যে আমি ম্যাচটা জিতিয়েছি। কারণ আমি জয়ের শটটা মারিনি, আমি আউট হয়ে গিয়েছিলাম। তাই একটু রাগ হয়েছিল। দর্শকদের সামনে ম্যাচ জিতিয়ে উদযাপন করতে চেয়েছিলাম। আশা করি সামনে সেই সুযোগ আসবে।

প্রশ্ন: আপনার দেশ থেকে জেসন রয়, উইল জ্যাকস, জোফরা আর্চার বিপিএলে খেলে পরে জাতীয় দলে ফিরেছেন; এটা কীভাবে দেখেন?উত্তর: অনেকে বলেছে বিপিএল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথে একটা সুযোগ। তবে আমি সেটা নিয়ে খুব ভাবি না। আমি শুধু ক্রিকেটটা উপভোগ করতে চাই। ভালো খেললে সুযোগ নিজে থেকেই আসবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোন সংস্কৃতি সবচেয়ে ভালো লেগেছে?উত্তর: মানুষজন খুব বন্ধুসুলভ, সাহায্যপ্রবণ ও অতিথিপরায়ণ। খাবার দারুণ। মানুষগুলোই আমার প্রথম সপ্তাহটাকে বিশেষ করে তুলেছে।

প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটা ছিল?উত্তর: নিজের হোম কাউন্টি দলকে বিদায় জানানো। এরপর অনিশ্চয়তা ছিল কোথায় যাব। পরে ওরচেস্টারশায়ার যোগ দিই। ওরা আমাকে প্রথম শ্রেণির ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সুযোগ দিয়েছে।

প্রশ্ন: আগামী দুই-তিন বছরে নিজেকে কোথায় দেখছেন?উত্তর: খুব বেশি সামনে তাকাতে চাই না। এখন সিলেটের হয়ে খেলছি, সিলেটের জন্য ম্যাচ জিততে চাই। প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। ক্রিকেটটা উপভোগ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এসকেডি/এমএমআর/এমএস