ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুইজন নিহত হয়েছেন। ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পর এটাই প্রথম হতাহতের ঘটনা।
ফার্সের খবরে বলা হয়, তেহরান থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে লরদেগান শহরে সংঘর্ষ, পাথর নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে নিহতের সংখ্যা দুইজনে দাঁড়িয়েছে।
এর আগের দিন রাজধানী তেহরানে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। পাশাপাশি ইসফাহান, ইয়াজ্দ ও জানজান শহরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিয়ালের মান দ্রুত কমে গেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। রোববার বিক্ষোভ শুরুর সময় এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে প্রায় ১৪ লাখ ২০ হাজার রিয়াল লেনদেন হচ্ছিল, যেখানে এক বছর আগে এই হার ছিল প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার রিয়াল।
দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের অর্থনীতি গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে আরও চাপে পড়েছে। তখন জাতিসংঘ দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে ১০ বছর আগে প্রত্যাহার করা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে।
ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের উদ্বেগের কথা শুনবে।
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, কঠোর কণ্ঠ থাকলেও সরকার ধৈর্যের সঙ্গে শুনবে, কারণ আমরা বিশ্বাস করি আমাদের জনগণ যথেষ্ট ধৈর্যশীল। আর যখন তাদের কণ্ঠ উঁচু হয়, তখন বোঝা যায় তাদের ওপর চাপ অনেক বেশি।
তিনি বলেন, সরকারের কাজ হলো মানুষের কণ্ঠ শোনা এবং সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি যৌথ বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে সহায়তা করা।
তিনি আরও জানান, সরকার শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার স্বীকার করে।
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কিছু প্রস্তাব দেন বলে আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়।
পেজেশকিয়ান বলেন, তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের বিক্ষোভকারীদের ন্যায্য দাবি শোনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের জীবিকা রক্ষার অঙ্গীকার করেছে।
কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি বলেন, ইরানের জনগণের সরকারের ওপর আস্থা নেই যে তারা এই অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে।
সূত্র: এএফপি, আল-জাজিরা
এমএসএম