শিক্ষা

বছরের প্রথম দিনে ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছেছে নতুন বই

বছরের প্রথম দিন আজ ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মোট চাহিদার ৩০ কোটি ২ লাখ ৫ হাজার ১০৪টি বইয়ের মধ্যে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৯ হাজার ২১০টি বই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রাথমিক, প্রাক-প্রাথমিক এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য প্রস্তুত করা বই ১০০ শতাংশ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। ইফতেদায়ি মাদরাসার ৯৫ শতাংশ, নবম ও দশম শ্রেণির ৮৬ শতাংশ, ষষ্ঠ শ্রেণির ৮২ শতাংশ এবং ব্রেইল পদ্ধতির ৭৭ শতাংশ বই শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছেছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির জন্য যথাক্রমে ৬৩ শতাংশ ও ৫২ শতাংশ বই বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছেছে।

উপ-প্রেস সচিব বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই প্রস্তুতিতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগায় প্রথম দিনে সব বই বিতরণ সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। এর জন্য গত ২৮ ডিসেম্বর সব বইয়ের পিডিএফ কপি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে, যা বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রিন্ট করে ব্যবহার করা যাবে। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব বই বিতরণ সম্পন্ন হবে।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, গত পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কখনই মার্চ মাসের আগে বই বিতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভুল সংশোধন ও গণগত মান নিশ্চিত করার জন্য এবার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। মোট ১২৩টি পাঠ্যপুস্তকের ভুল শনাক্ত করা হয়েছে এবং ২২৬ জন শিক্ষকের মতামত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বানান, ব্যাকরণ ও ছাপার অস্পষ্টতা দূর করার জন্য ৩০০-এরও বেশি শিক্ষকের অংশগ্রহণে ২১ দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ইংরেজি ভার্সনের বইগুলোও সংশোধন করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করতে কুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলকে কারিগরি সহায়তায় সম্পৃক্ত করা হয়েছিল।

এমইউ/এমএএইচ/জেআইএম