সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটসালে অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের। তবে মেয়েদেরে ফুটসালে অভিষেক হয়েছে আরো আগে ২০১৮ সালে। সেবার ব্যাংককে সাবিনা-মাসুরারা অংশ নিয়েছিলেন এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ফুটসালে অভিষেক হওয়া দুই দলই শুক্রবার এক সাথে খেলতে যাচ্ছেন সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে।
দক্ষিণ এশিয়ার টুর্নামেন্ট হলেও আয়োজক থাইল্যান্ড। ১৩ জানুয়ারি শুরু হবে মেয়েদের প্রতিযোগিতা, পরের দিন ছেলেদের। দুই দলেরই প্রধান কোচ ইরানের সাঈদ খোদারাহমি। যার নেতৃত্বে ফুটসালে অভিষেক হয়েছিল পুরুষ দলের।
থাইল্যান্ড যাওয়ার আগের বিকেলে বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেছেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো সাফ ফুটসাল খেলতে যাচ্ছি। সবার কাছে আমরা দোয়া চাই। ফুটসালের প্রতি আমার আলাদা একটা দুর্বলতা আছে। বাংলাদেশের প্রথম কোনো নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশের মাটিতে আমি ফুটসাল খেলেছি। সেটা আমার কাছে অনেক স্মৃতিময়। আমাদের নতুন গেম। আর দেশের স্বার্থে আমার যাওয়া। সেখানে যদি দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি, একটা ভালো পজিশনে নিয়ে যেতে পারি, পরের প্রজন্ম যারা আসবে তাদের জন্য কাজটা একটু সহজ হবে।’
আপনি আবার ফুটবলে ফেরার আশা করেন কিনা কিংবা ক্যারিয়ারের শেষ দেখছেন কি? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবিনা খাতুন বলেন, ‘আসলে ক্যারিয়ার কখন শেষ হবে, ফুটবলাররা সিদ্ধান্ত নিলেই ভালো হয়। আমি আসলে কবে ফুটসাল ছাড়ব বা ফুটবল ছাড়ব সেই সিদ্ধান্ত আমি নেবো। আমি খেলেছি আগে, অভিজ্ঞতা আছে। আমার জন্য যদি দেশের একটু ভালো হয় বা আমি যদি বাকি মেয়েদেরকে সাপোর্ট দিতে পারি, তাহলে কেন যাব না? সেই জায়গা থেকে এ ধরনের ভাবনার কিছু নেই যে, সাবিনা ফুটবল খেলবে না, ফুটসালেই থাকবে বা ফুটসাল খেলবে না কিংবা আবার ফুটবলে ব্যাক করবে। আমার যেখানে প্রয়োজন মনে হবে আমি ট্রাই করবো। ওই জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করবো।’
সাফে বাংলাদেশের কেমন ফলাফল করতে পারে সে প্রসঙ্গে সাবিনা খাতুন বলেছেন, ‘রেজাল্ট তো আসলে এখনই বলতে পারব না। কারণ কোনো টিম সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। মালদ্বীপকে যদি দেখেন, আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারি যে ওরা হচ্ছে বেশ অভিজ্ঞ। ওখানকার মেয়েরা মূলত ফুটসালই খেলে। তাই সেদিক দিয়ে আমাদের চেয়ে মালদ্বীপ এগিয়ে থাকবে। ভারত কিছু কোয়ালিফায়ার্স খেলছে ফুটসালে, তারা অবশ্যই সবসময় স্ট্রং হয় এবং ওদের পরিকল্পনা সবসময় আগের থেকেই থাকে। বাকি টিমগুলো যারা আছে তারা আমাদের মতোই নতুন। তবে অবশ্যই যেহেতু এক মাসের একটু বেশি সময় ট্রেনিং করেছি, সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় যে আমরা ভালো কিছু করবো।’
সংবাদ সম্মেলনে পুরুষ দলের অধিনায়ক রাহবার ওয়াহেদ খান উপস্থিত ছিলেন না। তিনি এখন কানাডায় আছেন। সেখান থেকে ৩ জানুয়ারি তিনি থাইল্যান্ডে দলের সাথে যোগ দেবেন। সাফ ফুটসালের দুই বিভাগেই অংশ নিচ্ছেন দক্ষিণ এশিয়ার ৭ দেশ।
আরআই/এমএমআর/জেআইএম