আইন-আদালত

কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণ: রিমান্ড শেষে কারাগারে ৩ নারী আসামি

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তিন নারীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিন দিনের রিমান্ড শেষ হলে তাদের ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম আসামিদের জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ আবেদন মঞ্জুর করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন, উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার পরিচালক আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮), তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৩০) এবং আসমানী খাতুন (৩৪)।

এর আগে, গত ২৮ ডিসেম্বর আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন মামলার অন্য আসামি শাহীন ওরফে আবু বকর (৩২), আমিনুর ওরফে দর্জি আমিন (৫০) এবং শাফিয়ার রহমান ফকির (৩৬)-এর সাত দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়। পুলিশ গত ২৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসনাবাদের উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার একটি কক্ষে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কক্ষটির দেওয়াল ও ছাদের অংশবিশেষ ভেঙে পড়ে এবং আশপাশের এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটের ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমান ও এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আলামত সংগ্রহ অভিযান শুরু করে।

দুই দিনব্যাপী অভিযান শেষে সিআইডি জানায়, পলাতক আসামি আল-আমিনের ভাড়া বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক অ্যাসিড, সাদা রঙের পাউডারসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের জারকিন, কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো নয়টি তাজা ককটেল এবং প্রায় ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক। এছাড়া বোমা তৈরির নানা সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।

এমডিএএ/এএমএ/জেআইএম