এশিয়া কাপের গেলো আসরে জাসপ্রিত বুমরাহকে সহজেই খেলেছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। ভারতের বিপক্ষে ফিফটির উদযাপনের কারণেই এসেছিলেন আলোচনায়। সেই ফারহান এবার প্রথমবার এসেছেন বিপিএল খেলতে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এর হয়ে খেলা এই ওপেনার আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বিপিএলসহ জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে কথা বলেছেন নানা বিষয়ে। তারই চুম্বক অংশ এখানে তুলে দেওয়া হলো-
জাগো নিউজ: অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে আছেন, অভিজ্ঞতা কেমন?ফারহান: অভিজ্ঞতা খুব অসাধারণ এবং আমার শেষ ম্যাচ রংপুর রাইডার্সের সাথে, এরপর জাতীয় দলের দায়িত্বে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা আবার ফিরে আসবো এবং আমাদের দল যেভাবে খেলছে, আমার মনে হয় আমরা এই জিনিসটা ধরে রাখব।
জাগো নিউজ: বাংলাদেশের উইকেটে ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে খেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং?ফারহান: একজন ওপেনার হিসেবে আপনাকে এখানে একটু সময় নিতে হয়। এখানে যেভাবে বল সিম হয়, সুইং হয়। আমার মনে হয় একজন ওপেনার হিসেবে আপনাকে একটু ভালো টেকনিকের সাথে খেলতে হয় এবং এটা এমন নয় যে, আপনি প্রথম বল থেকে বা দ্বিতীয় বল থেকে উড়িয়ে মারবেন।
জাগো নিউজ: সব ঠিক থাকলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবেন, লক্ষ্য কী?ফারহান: আমি মনে করি লক্ষ্য একটাই যে, পাকিস্তানকে ম্যাচ জেতানো এবং ইনশাআল্লাহ বিশ্বকাপ জেতানো। যেভাবে সম্প্রতি আমরা এশিয়া কাপে ভালো খেলেছিলাম, আমরা ফাইনাল খেলেছিলাম। আমার মনে হয় ছেলেরা আত্মবিশ্বাসী আছে এবং সবার ভালো প্রস্তুতি চলছে। সামনে আমাদের সিরিজ আছে সেটাও শ্রীলঙ্কায় এবং এটা বিশ্বকাপ হিসেবে আমরা সেখানে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ এটাই লক্ষ্য যে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো।
জাগো নিউজ: পাওয়ারপ্লেতে যখন উইকেট হারাতে থাকে দল, তখন মাইন্ড সেটআপ কেমন রাখেন?ফারহান: একজন ওপেনার হিসেবে আপনাকে একটু ঝুঁকি নিতে হয়, সেভাবেই আমি গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে খেলে আসছি। আমার খেলার স্টাইলও এটাই। যদি আমি প্রথম বল পাই তো আমি মারি। কিন্তু একটু পরিস্থিতি অনুযায়ী এবং উইকেট অনুযায়ী খেলা উচিত।
জাগো নিউজ: আপনার কি মনে হয় রাজশাহী শিরোপা জিতবে?ফারহান: এখানে দুটি সেরা দল আছে, রাজশাহী-রংপুর রাইডার্স ভালো দল। সিলেটও ভালো। কিন্তু এটা ক্রিকেট, সবকিছু হতে পারে। আপনি এটা আগে থেকে বলতে পারবেন না যে কে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। কিন্তু হ্যাঁ, আমরা এই যে তিনটি দল আছে, এগুলো ইনশাআল্লাহ সেরা দলের মধ্যে একটি। কারণ আমি তো অবশ্যই রাজশাহীকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে চাই।
জাগো নিউজ: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের খাবার একইরকম, আপনি কোন খাবার সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেছেন?ফারহান: কাবাব এবং মাটন বিরিয়ানি আমি খেয়েছি, কিছুটা মশলাদার হলেও এই দুটি খাবার ভালো।
জাগো নিউজ: বাংলাদেশে কোন খেলোয়াড়কে আপনি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন?ফারহান: তামিম ভাই, কারণ তিনিও একজন ওপেনার ছিলেন এবং যেভাবে তিনি বাংলাদেশের জন্য বিশ্বজুড়ে পারফরম্যান্স করেছেন। সেটা দুর্দান্ত।
জাগো নিউজ: আপনার ক্যারিয়ারের শুরু, আপনি কিভাবে ক্রিকেটে এসেছিলেন মনে আছে নিশ্চয়ই...ফারহান: পাকিস্তানে খেলোয়াড়রা যেভাবে সবাই টেপ টেনিস বল থেকে আসে। আমিও প্রথমে শুরু থেকে টেপ বলই খেলতাম। আমার একজন বন্ধু আছে। সে আমাকে সেখানে দেখেছিল, তারপর সেখান থেকে আমি পেশাদার ক্রিকেট শুরু করেছিলাম হার্ড বলে। টেপ বল থেকে আমি হার্ড বলে এসেছিলাম।
জাগো নিউজ: আপনার শৈশবে কি এমন কোনো আদর্শ ছিল যাকে আপনি অনুসরণ করতেন?ফারহান: শুরুতে খেলোয়াড় তো অনেক আছে কিন্তু শহিদ (আফ্রিদি) ভাইকে দেখতাম যেভাবে তিনি খেলতেন, ছক্কার পর ছক্কা মারতেন। পরে যখন পেশাদার ক্রিকেটে এলাম, তখন আহমেদ শেহজাদকে দেখতাম, ইমরান নাজিরকে দেখতাম। আমার মনে হয় পাকিস্তানে সেই দুইজন খেলোয়াড়ই আছে যারা সেই সময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলতেন এবং ভালোভাবে খেলতেন যেভাবে টি-টোয়েন্টির জন্য প্রয়োজন হয়।
জাগো নিউজ: জাসপ্রিত বুমরাহ এখন বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন বোলার। এবং আপনি গত এশিয়া কাপে তার বিরুদ্ধে সহজেই খেলেছিলেন...ফারহান: সে সেরা বোলারদের মধ্যে একজন, কঠিন বোলারদের মধ্যে একজন। কারণ সে এমন একজন বোলার যে আপনাকে কঠিন সময় দিতে পারে। কিন্তু মাঝে মাঝে আপনার ভাগ্য সঙ্গে থাকে এবং এটা এমন নয় যে আপনি তাকে প্রতিবার এভাবে মারবেন। সেই সময় আমার ব্যাটে বল আসছিল, রান হচ্ছিল, ভাগ্য সহায় ছিল এটা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনও সেরা বোলারদের মধ্যে একজন এবং সবাই তাকে মানেও।
জাগো নিউজ: সেই ম্যাচে আপনার উদযাপন নিয়ে আলোচনা আছে। আপনার সেই উদযাপনের পরিকল্পনা কী ছিল?ফারহান: ভারতের বিপক্ষে যে উদযাপন সেটা আগে থেকে পরিকল্পনা ছিল না এবং মনেও ছিল না। কিন্তু আমি পেশোয়ার থেকে উঠে এসেছি, আমরা পাঠান লোক। উদযাপন সেখানে স্বাভাবিক। কারণ এই ধরনের উদযাপন আমরা সাধারণত বিয়ের অনুষ্ঠানে করি বা যে কোনো আনন্দের উপলক্ষ থাকলে... আমরা সেই উদযাপনই করি তো। সেটা এমন ছিল না যে পরিকল্পনা ছিল বা মনে ছিল, সেটা শুধু মনে এসে গিয়েছিল এবং আমি করেছিলাম।
জাগো নিউজ: আসন্ন বিশ্বকাপেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। এবার আপনার প্রত্যাশা কী?ফারহান: সবশেষ যে দুটি ম্যাচ আমরা খেলেছিলাম কঠিন ম্যাচ ছিল। একতরফা ম্যাচ ছিল না আমার মনে হয়। সবাই জানে ভারতের দলও ভালো, পাকিস্তানেরও ভালো। ফলে ভালো লড়াই দেখতে পাওয়া যাবে।
জাগো নিউজ: আপনি পিএসএল খেলেছেন, এখন আপনি বিপিএলে আছেন। দুটি লিগের তুলনা করলে কী বলবেন?ফারহান: আমি মনে করি পিএসএল আপনারা জানেন, সেরা লিগগুলোর মধ্যে একটি। এবং বিপিএলও সেরা লিগগুলোর মধ্যে একটি, যত আমাদের তারকারা আছেন এখান থেকে খেলে গেছেন। শহিদ আফ্রিদি, আহমেদ শেহজাদ, বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, শাহিন শাহ আফ্রিদি। আমার মনে হয় সেরা দলগুলোর মধ্যে একটি এবং এটা প্রতি বছর ভালো হচ্ছে। বিশেষভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা হলো, এখানকার স্থানীয় খেলোয়াড়রা খুব অসাধারণ। যেভাবে আমাদের সাথে মিশে চলে। রিপন আছে, জিশান আছে, আকবর আছে; আমার মনে হয় যে তরুণ প্রতিভা আছে তাদের জন্য এটা খুব অসাধারণ সুযোগ।
জাগো নিউজ: শান্তর অধিনায়কত্ব সম্পর্কে কী বলবেন?ফারহান: শান্তর অধিনায়কত্ব খুব ভালো। যেভাবে তিনি আমাদের বলেন, যেভাবে গাইড করেন এবং বিশেষভাবে সমর্থন করছেন প্রতিটি খেলোয়াড়কে। আমার মনে হয় কুল ক্যাপ্টেন এবং ভালোভাবে ডিল করেন। বিশেষকরে সেও মুশফিক ভাইয়ের কাছ থেকে কিছুটা সাহায্য পায়। কারণ আপনারা জানেন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তিনি।
জাগো নিউজ: আপনি কি এমন কোন বাংলাদেশি স্থানীয় খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করেছেন যার ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল? ফারহান: রিপন। সে একজন খুব ভালো উদীয়মান ফাস্ট বোলার। যেভাবে সে গত ম্যাচে এখানেও করেছিল, ইমার্জিং এশিয়া কাপে সে ভালো পারফরম্যান্স করেছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ এ ভালো পারফর্ম করছিল। বিপিএলেও ভালো পারফর্ম করছে তো আমার মনে হয় রিপন বেশ ভালো।
জাগো নিউজ: সামনে শ্রীলঙ্কাতেও খেলবেন, পরিকল্পনা কী?ফারহান: পরিকল্পনা তো আপনারা জানেন যে আমাদের সিরিজ শ্রীলঙ্কায় আছে, বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কায়। তো এখানকার যে পিচগুলো আছে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা কিছুটা আমার মনে হয় একইরকম। আমার কথা ছিল এখানে যখন আসব, কিছুটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও হয়ে যাবে এবং কিছুটা অনুশীলনও হয়ে যাবে আমাদের জন্য।
এসকেডি/এমএমআর/জেআইএম