গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের প্রকোপ বেড়েছে সুনামগঞ্জে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের বাসিন্দারা। বিশেষ করে এই শীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষরাও পড়েছেন চরম বিপাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩ থেকে ৪ দিন ধরে অন্যান্য সময় থেকে সুনামগঞ্জে সকাল থেকে কুয়াশায় চারদিকে ডেকে আছে। সেই সঙ্গে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে বেড়েছে শীত। ফলে শ্রমজীবী, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের পড়েছেন বিপাকে। এমনকি এই শীতে সবচেয়ে বেশি কঠিন সময় পার করছেন ফুটপাতে থাকা মানুষ ও পথ শিশুরা।
রিকশাচালক সমির মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে শীত পড়েছে। এতে ঘর থেকে মানুষ বের হচ্ছে না। আমরা সংসার চলানোর জন্য বাসা থেকে বের হচ্ছি কিন্তু রাস্তায় মানুষ তেমন না থাকায় একটা টাকা ইনকাম করতে পারছি না।
ফুটপাতে থাকা ৫৫ বছরের বৃদ্ধ জাকির মিয়া বলেন, অনেক কষ্ট করে দিন-রাত পার করছি। দিনে হয়তো কোনোও রকম কাটানো যায় কিন্তু রাতে কুয়াশার পাশাপাশি হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে করে ফুটপাতে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দিনমজুর রাসেদ মিয়া বলেন, কাজের জন্য সকালে কুয়াশা ও শীতের মাঝে শহরের কালীবাড়ি পয়েন্টে আমিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক এসে বসে আছি কিন্তু কাজ পাচ্ছি না। শীতটা আমাদের নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুরদের জন্য দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়তি কষ্ট নিয়ে এসেছে।
কৃষক কালা মিয়া বলেন, শীতের কারণে ঠিক সময়ে হাওরে বোরো ধানের বীজতলা করতে পারছি না। যারা এই শীতে হাওরে কাজ করছে তারাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিধ শাহ্ মো. সজীব হোসেন বলেন, সিলেটে বুধবার এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী পাঁচদিন এই বিভাগে আবহাওয়া একই রকম থাকতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস পরিবর্তনীয়।
লিপসন আহমেদ/এনএইচআর/জেআইএম