লাইফস্টাইল

ডেট করুন রান্নাঘরে, রান্নার স্কিল দেখে চিনুন দায়িত্বশীলতা

 

একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে সাধারণত কোনো ক্যাফে বা রেস্তোরাঁই  সবার প্রথম পছন্দ। খেতে খেতে একে অপরকে চেনার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু শুধু খাবার খেলে কি সত্যিই কাছাকাছি আসা সম্ভব? খাওয়াদাওয়া নয়, একসঙ্গে রান্না করলে মানুষ বেশি কাছে আসে। রান্নার সময় শুধু খাবার তৈরি হয় না, একই সঙ্গে বোঝাপড়া, মনোযোগ এবং যত্নও জন্ম নেয়। সঙ্গীর মনের কাছাকাছি পৌঁছানোর নতুন রাস্তা এখন রান্না।

আরও স্পষ্ট বিষয় হলো, যে ব্যক্তি রান্না জানে, তার মধ্যে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বা ইতিবাচক গুণাবলী দেখা যায়-যেমন যত্নশীলতা, স্বাধীনতা এবং দায়িত্ববোধ। তাই শুধু ডেটে বসে খাওয়া নয়, একসঙ্গে রান্না করেও সম্পর্কের বন্ধন আরও গভীর করা সম্ভব।

সম্প্রতি এক সমীক্ষা প্রকাশ করেছে সিঙ্গলদের মনের কিছু অজানা দিক। জানা গেছে, ৬৩% মানুষ সেই ব্যক্তিকেই লাইফ পার্টনার হিসেবে বেছে নিতে চান, যে রান্না জানে। শুধু রান্না নয়, এর মাধ্যমে মানুষ দেখেন যত্নশীলতা ও দায়িত্ববোধও। ৫৬% সিঙ্গল মনে করেন, কেউ যদি রান্না করে আপনাকে খাওয়ায়, তবে বোঝা যায় তিনি আপনার প্রতি যত্নশীল।

আরও আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, ৫৫% মানুষ রান্না জানা মানেই স্বাধীনতার প্রতীক মনে করেন। অর্থাৎ যে কেউ যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নিতে পারেন, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা অনেক সহজ হয়।

প্রথম ডেটটি হয়তো রেস্তোরাঁয় বসে একসঙ্গে খাবার খাওয়া হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় ডেটে সিঙ্গলদের ৯০% আশা, দু’জন একসঙ্গে রান্না করবেন। কারণ রান্নার সময় পারস্পরিক বোঝাপড়া, কমিউনিকেশন ও যত্ন স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। এই অভ্যাস সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে, পাশাপাশি সঙ্গীর মনোভাব, ধৈর্য ও ব্যক্তিত্বও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক একসঙ্গে রান্না করলে কী কী হয়-

১. একে অন্যকে চেনার নতুন সুযোগ তৈরি হয় প্রত্যেকের খাবারের পছন্দ ভিন্ন। কেউ ঝাল-মসলাদার খাবার পছন্দ করে, কেউ মিষ্টির প্রতি বেশি ঝোঁক বেশি থাকে। সাধারণ ডিনার ডেটে এই পছন্দগুলো বোঝা যায়, কিন্তু একসঙ্গে রান্না করলে আরও গভীরভাবে জানা সম্ভব।রান্নার সময় বোঝা যায় কার কোন খাবার কমফোর্ট ফুড, কার কোন খাবারে অ্যালার্জি, এবং কার ছোটখাটো স্বাদ বা পছন্দের নিয়ম কী। শুধু খাবার নয়, একে অপরের জীবনধারা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ এবং ছোট ছোট অভ্যাসও জানা যায়। এভাবে সম্পর্ক আরও প্রগাঢ় হয় এবং পরস্পরের পছন্দ বোঝার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

২. সম্পর্ক মজবুত হয়রান্নার সময় বোঝা যায়, একে অপরের জন্য কতটা পারফেক্ট। অর্থাৎ আপনারা কতটা কম্পাটিবল বা মানানসই, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদি একা হাতে রান্না করেন, শুধু আপনার নিজের চিন্তাভাবনা খাবারে ফুটে ওঠে। কিন্তু দু’জনে মিলে রান্না করলে আপনাকে একটি টিম হিসেবে কাজ করতে হয়। সেখানে প্রয়োজন হয় কমিউনিকেশন এবং একে অপরকে বোঝার দক্ষতা। এভাবে একসঙ্গে রান্না করলে কম্পাটিবিলিটি বোঝা সহজ হয় এবং সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।

৩.বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করা যায় সারা সপ্তাহে সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানো সবসময় সম্ভব হয় না। তবে সপ্তাহে একবার একসঙ্গে রান্না করলে একে অপরের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো যায়। রান্নার সময় শুধু খাবারই তৈরি হয় না, সম্পর্কও মজবুত হয়। একসঙ্গে কাজ করতে করতে বোঝাপড়া, হাসি-আনন্দ এবং ছোট ছোট উষ্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়। এই ধরনের কুকিং ডেটের মাধ্যমে দু’জনে আরও কাছাকাছি আসতে পারেন।

সূত্র: লিটল ব্ল্যাক বুক, পিআর নিউজওয়্যার ও অন্যান্য

আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাচ্ছে বন্ধুরা, যা করতে পারেন সম্পর্কে ব্যক্তিস্বাধীনতা না থাকলে কী হয় 

এসএকেওয়াই/