আন্তর্জাতিক

ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ‘উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’ যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে বা সহিংসভাবে হত্যা করে, যা তাদের স্বভাবসিদ্ধ আচরণ, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’, প্রস্তুত আছি।

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) কয়েকটি শহরে সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এটিই চলমান অস্থিরতায় প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।

এর আগে রাজধানী তেহরানে দোকানদাররা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে ধর্মঘটে যান। পরে এই আন্দোলন দেশের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জানায়, চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লর্ডেগান শহরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। একই দিন প্রতিবেশী লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে তিনজন নিহত হন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এর আগে জানিয়েছিল, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুহদাশতে রাতভর চলা বিক্ষোভে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

বর্তমান এই বিক্ষোভ ২০২২ সালের বড় ধরনের গণআন্দোলনের তুলনায় ছোট আকারের। ওই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল পুলিশি হেফাজতে ইরানি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায়। নারীদের জন্য কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মাহসা আমিনির মৃত্যু কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ কয়েক শ মানুষ নিহত হয়।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ