যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরাতন ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা যায়, আগুন নেভানোর আগেই অগুন ও ফায়ার সার্ভিসের পানিতে রেজিস্ট্রি অফিসের শত বছরের অনেক পুরাতন ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। রেজিস্ট্রি অফিসের এই পুরাতন ভবনে যশোর, পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ ও নদীয়াসহ বিভিন্ন জেলার ১৯২৭ সালের জমিসংক্রান্ত রেকর্ড ও নথিপত্র সংরক্ষিত ছিল।
স্থানীয়রা জানান, যশোর শহরের হজরত গরীবশাহ মাজার রোডের রেজিস্ট্রি অফিসের পুরাতন ভবনে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত। এরপর আগুন ভবনের ভেতরের কাগজপত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও কোনো কাজ হয়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে এরই মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এরপর তারা তাদের কর্মকাণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ভবনের আশেপাশে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর থেকে মাদকসেবীদের আড্ডা চলে। তাদের ফেলে দেওয়া আগুনে এ ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও রেজিস্ট্রি অফিসের পুরাতন ভবনের বারান্দার চারপাশে রেলিং দিয়ে আটকানো রয়েছে। এ কারণে সেখানে আগুন ধরার বিষয়টি অনেকে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের এই ভবনটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। ধারণা করা হয় ১৭৮১ সালে ভবনটি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার নির্মাণ করেন। সেই থেকে এখানে যশোর অঞ্চলের জমিসংক্রান্ত সকল নথিপত্র সংরক্ষণ করা হতো। ওই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ ও নদীয়াসহ অন্যান্য এলাকার জমিসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড এ অফিস থেকেই পরিচালিত হতো। এদিনের আগুনে শত বছরের পুরোনো কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একইসাথে আগুন নেভানোর পানিতেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও কাগজপত্রও নষ্ট হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসী ধারণা করছেন।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, এ আগুন লাগার কারণ তারা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারেননি। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সেটি তারা তদন্ত শেষে জানাতে পারবেন।
মিলন রহমান/এমএন/এএসএম