স্ট্রোকের মতো গুরুতর অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তৌসিফ আহমেদ। বিষয়টিকে সাইবার বুলিং ও মানহানি হিসেবে উল্লেখ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
আজ (৩ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানান তৌসিফ। শ্রোতাদের মনোযোগ দিয়ে পোস্টটি পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, গতকাল তার স্ট্রোকের খবরকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ব্যক্তি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এসব মন্তব্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত নন, তবে সাইবার বুলিং, মানহানি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করার কথা বিবেচনা করছেন।
পোস্টে নিজের পারিবারিক ও শিক্ষাগত পরিচয় স্পষ্ট করে তৌসিফ আহমেদ জানান, তার বাবা একজন বিবিএস ক্যাডার এবং তিন জেলায় সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি আইএইচটি (ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি)-এর প্রিন্সিপালও ছিলেন। তৌসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পরিবারে তিনি ছাড়া বাকি ভাইবোন এবং আত্মীয়স্বজনরা চিকিৎসক ও প্রকৌশলী পেশার সঙ্গে যুক্ত। তিনি নিজেও বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে পড়াশোনা করেছেন।
স্ট্রোকের কারণ ব্যাখ্যা করে গায়ক লেখেন, প্রায় ১৫ বছর আগে তার হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। সিভিয়ার হাইপারগ্লাইসেমিয়ার কারণেই সকাল সাতটার পর তার স্ট্রোক হয়।
এ সময় নিজের নাম ও পরিবার নিয়ে ছড়ানো কিছু গুজবেরও প্রতিবাদ জানান তিনি। কারও কারও মন্তব্যে তার নাম ‘তৌসিফ উদ্দিন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে-যা সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করেন শিল্পী। তার ভাষ্য, স্কুল, কলেজ ও মেডিকেল কলেজের সব নথিতেই তার নাম তৌসিফ আহমেদ। এসব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তার পরিবারকে হেয় করা হয়েছে এবং এতে তার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে তৌসিফ আহমেদ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যারা তাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন তারা জানেন তিনি কেমন মানুষ। তার পরিবার সমাজের নানা স্তরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে, তাই তাদের নিয়ে কটূক্তি না করার আহ্বান জানান তিনি। বড় শিল্পী হতে না পারলেও, ২০ বছর পরও শ্রোতারা তার গান শোনেন-এটাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন এই গায়ক।
বিষয়টি নিয়ে তৌসিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে তার স্ট্রোকের খবরের কমেন্ট বক্সে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। একজন মানুষের অসুস্থতা নিয়েও যারা বুলিং করে, তাদের মানসিক সুস্থতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গত ২৯ ডিসেম্বর নিজ বাসায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তৌসিফ আহমেদ। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ২৭টি সেলাই দিতে হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় গত ১ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি।
আরও পড়ুন:বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মনির খান দুঃসংবাদ দিলেন সংগীতশিল্পী তৌসিফ
সিডির যুগে সংগীতাঙ্গনে তৌসিফ আহমেদের আগমন। প্রথম অ্যালবাম দিয়েই শ্রোতাদের মন জয় করেন তিনি। ‘দূরে কোথাও আছি বসে’, ‘বৃষ্টি ঝরে যায়’, ‘এ মনের আঙিনায়’, ‘জান পাখি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী।
এমএমএফ