ক্ষমতার সঙ্গে জাদুর কাঠির সম্পর্ক ভাঙতে না পারলে ছলে-বলে-কলে-কৌশলে সংসদ সদস্য হওয়ার বিরাজমান অশুভ প্রতিযোগিতার অবসান ঘটনো যাবে না, নির্বাচনী সহিংসতার অবসান হবে না। এমনটিই মনে করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণঅভুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় কেমন নির্বাচনি ইশতেহার চাই’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিমত জানায় সংগঠনটি। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক ও সুজন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুজনের কোষাধ্যক্ষ ও সুজন ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্টি সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নির্বাচন কার্যক্রম সমন্বয়ক একরাম হোসেন এবং সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ও ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, বিগত ৫৫ বছরে রাজনীতিতে অবক্ষয় ঘটেছে। সংসদ সদস্য হওয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা কাঠামোর অংশ হতে পারলে অতি সহজে অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হওয়া যায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে সাংবিধানিক ভারসাম্য পুন:প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, সহনশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো, নারীর ক্ষমতা ক্ষমতায়নে অঙ্গীকার,দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক লড়াই, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা করা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছে সুজন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন ও পূর্ণাঙ্গ অঙ্গীকার ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা নয়; এটি ছিল রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব জাগরণ এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার এক তীব্র বিস্ফোরণ। এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে জনগণ আর নীরব দর্শক থাকতে রাজি নয় এবং তারা অবিচার, বৈষম্য ও জবাবদিহিহীনতার উত্তরাধিকার বহন করতে চায় না। জনগণ চায় অংশগ্রহণমূলক, মর্যাদাভিত্তিক ও ন্যায়সংগত গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক দলগুলো একাধিক জোট গঠনে উদ্যোগী হলেও এসব জোট আদর্শিক নাকি কেবল নির্বাচনি সমঝোতা- তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, জনগণ তত বেশি জানতে চায়- নির্বাচনে জয়ী হলে দলগুলো কী করবে, কীভাবে করবে এবং কখন করবে, যার স্পষ্ট প্রতিফলন নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা জরুরি।জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ কেবল একটি দলিল নয়; এটি জনগণের নৈতিক প্রত্যাশার প্রতীক এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার পথরেখা। রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোকে এই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন, সংবিধানে তফসিল হিসেবে সংযুক্তি এবং এর বৈধতা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন না তোলার বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা চাই গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থাৎ গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানীকরণ। প্রতিবার যেন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। কাঠামোগত সংস্কার যেগুলোত ভিত্তিতে গণভোট হবে সেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট অবস্থান চাই। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে না, না ভোটের পক্ষে। নাগরিকরা যেন জানতে পারে। যদিও তারা অঙ্গীকার করেছে। জুলাই জাতীয় সনদে তারা অঙ্গীকার করেছে, তারা এটা বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, আমরা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এই ঝণ আমাদের শোধ করতে হবে। আমাদের নতুন যাত্রা করতে হবে। আশা করি রাজনৈতিক দলগুলো সেই যাত্রার পথ দেখাবে।
এসএম/এএমএ/এএসএম