রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ হামলায় শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার মো. শামীম আহমেদ হৃদয়ের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (৪ জানুয়ারি) শেরেবাংলা নগর থানায় করা মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হাসান শাহাদাত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসের ছাদে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে বহিরাগত কয়েকজন ব্যক্তি ছাত্রাবাসে এসে শামীম আহমেদ হৃদয়কে মারধর করে। পরে চিকিৎসা নিয়ে তিনি পুনরায় ছাত্রাবাসে ফিরে যান।
পরদিন ৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে শামীম আহমেদ হৃদয়ের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা, লোহার রড, পাইপ ও চাপাতি নিয়ে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাসের ডাইনিং রুমে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে পুলিশ।
আবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ভিকটিম সাকিবুল হাসান রানার মাথায় চাপাতির আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে জান্নাত নামের আরেক শিক্ষার্থীকেও মারধর করা হয়। হামলায় দুজনই মারাত্মকভাবে আহত হন। এ সময় ছাত্রাবাসের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
পরে সহপাঠীদের সহায়তায় আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সাকিবুল হাসান রানাকে মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৪২৭, ৫০৬ ধারাসহ পরে ৩০২ ধারা যুক্ত করে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত। পলাতক আসামিদের শনাক্ত, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
পুলিশ সাতদিনের রিমান্ড চাইলেও শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এমডিএএ/ইএ/এমএস