ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগে মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও সরকারের সিদ্ধান্তে সৃষ্ট গ্রাহক ভোগান্তি নিরসন ও দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে সারাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের আন্দোলন, বিটিআরসি ও সরকারের দিক থেকে একেকবার একেক ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে গ্রাহকরা চরম বিপাকে রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের ফলে গ্রাহক ভোগান্তি নিরসন ও দ্রুত সমাধান করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের চলমান আন্দোলনের কারণে সারাদেশে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নতুন হ্যান্ডসেট কেনা, ওয়ারেন্টি সেবা, রিপেয়ারিং ও যন্ত্রাংশ পাওয়া—সব ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এতে জরুরি যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল লেনদেন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একই সঙ্গে গ্রে মার্কেট সক্রিয় হয়ে প্রতারণা ও অতিরিক্ত দামের ঝুঁকিও বাড়ছে। আমরা মনে করি, কোনো নীতিগত অসন্তোষের কারণে গ্রাহকদের ভুক্তভোগী করা উচিত নয়। গ্রাহক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সংগঠনটি ৬টি দাবি তুলে ধরেছে১. এনইআইআর বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হোক। ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের হয়রানি যাতে না হয় তার জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা তৈরি করে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরির পর বাস্তবায়ন করা হোক। কারণ আসন্ন নির্বাচনে যাতে করে কোনো প্রকার বাধা-বিপত্তি তৈরি না হয় সেদিকে নজর রেখেই আপাতত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন বন্ধ করা হোক।
২. গ্রাহকদের হ্যান্ডসেটের গ্যারান্টি অবশ্যই দুই বছর হতে হবে এবং ওয়ারেন্টি পাঁচ বছর দিতে হবে। উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের এবং বৈধভাবে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে।
৩. প্রত্যেকটি হ্যান্ডসেটের মান নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে হ্যান্ডসেটের গায়ে সেই মান নির্ধারিত স্টিকার থাকতে হবে।
৪. গ্রাহক যাতে করে তার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে ঝামেলা এড়িয়ে চলতে পারে তার জন্য বিটিআরসিকে সারাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাস্টমার কেয়ার তৈরি করতে হবে।
৫. আন্দোলন চলাকালে ন্যূনতম গ্রাহকসেবা চালু রাখা এবং ওয়ারেন্টির গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা করতে হবে।
৬. অতিরিক্ত দাম ও প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে।
সংগঠনটি বলছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানাই, যাতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আর না বাড়ে। সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হবে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ইন্টারনেট বর্তমানে মৌলিক অধিকার। তাই এই অধিকার থেকে সারাদেশের জনগণ কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয় এ ব্যাপারে সরকারকে যত্নবান হতে হবে।
ইএইচটি/এমআইএইচএস/জেআইএম