তীব্র শীতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বেড়েছে শীতকালীন রোগের প্রার্দুভাব। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছে রোগীরা। প্রতিদিনই জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। এর বেশির ভাগই প্রত্যন্ত ও গ্রাম অঞ্চল এলাকা থেকে আসা শিশু ও বৃদ্ধ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত বইছে হিমেল বাতাস, তার সাথে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়া ঠান্ডাজনিত রোগের বাইরে কারও কারও দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া ও চর্মরোগ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বহির্বিভাগের রোগীর চাপ। এমতাবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গড়ে প্রতিদিন শুধুমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে অান্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) হাসপাতালে ৪৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্য বেশিরভাগই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগী।
পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি গ্রাম থেকে ৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে ভৈরব উপজেলা কমপ্লেক্সে হাসপাতালে আসেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুদিন যাবৎ আমার সন্তান ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছে। তাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কয়েকটি ওষুধ লিখে দিয়ে বলেছেন, কয়েকদিন খাওয়ালে সেরে উঠবেন।’
সন্তানের ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসেন তারেক মিয়া। তিনি বলেন, ‘এখন যে শীত পড়েছে। এতে সব বাচ্চারাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমার বাচ্চাটাও কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছে। ডাক্তারকে দেখালাম তারা হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছেন।’
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকার ইতি বেগম বলেন, ‘আমার সন্তানকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখাতে গেলে তিনি জানান, নিউমোনিয়া হয়েছে। তারপর সরকারি হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়ে তিনদিন যাবৎ চিকিৎসাধীন। এখন শরীর কিছুটা ভালোর দিকে।’
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর জানান, ‘এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় শীতের তীব্রতা বেশি থাকায় শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে৷ প্রতিদিনই হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাজারও রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও যাদের অবস্থা গুরুতর সেসব রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, সেবা নিতে আসা রোগীদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। শীত মৌসুমে এই রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাকের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
রাজীবুল হাসান/এমএন/এএসএম