দেশজুড়ে

গোপন টেন্ডারে ৫ কোটির পাইপ ১৯ লাখে নিলেন আ’লীগ নেতা

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাড়ে ৫ কোটি টাকার অব্যবহৃত পাইপ গোপন টেন্ডারে আওয়ামী লীগ নেতার কাছে মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে ঠিকাদাররা গেলে অফিস রেখে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোয়াখালী কার্যালয়ে গিয়ে এ ঘটনার সত্যতা মেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসের লোকজনের জোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দিয়ে কার্যাদেশের মাধ্যমে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেলের নেতৃত্বে বিএনপির সমর্থিত ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস রেখে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানা থেকে পুলিশ গেলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে আসেননি।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু এ তথ্য গোপন করে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এর আগে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নোয়াখালীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বিএনপি নেতা আবদুল মোতালেব আপেল বলেন, স্থানীয় ঠিকাদারদের না জানিয়ে প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম গোপন টেন্ডার দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি শুনে আমরা ওই অফিসে গিয়ে প্রতিবাদ জানাই। প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম অফিসে না এসে ওই টেন্ডারটি বাতিল করবেন বলে আশ্বাস দেন।

মেসার্স এসএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল বলেন, আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে ঠিকাদারি করি। এভাবে প্রকাশ্য লুটপাট আগে কখনো দেখিনি। জুলাই আন্দোলনের পর ভেবেছিলাম অনিয়ম বন্ধ হবে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো নিলাম দিইনি। নিলাম প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলাম কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমি পলাতক নই, অফিসের কাজে বাইরে আছি।

ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/এএসএম