ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে নিষিদ্ধ করেছে। বিসিসিআই এই নিষিদ্ধের যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করেনি। তবে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারতীয় প্রচার মাধ্যমে ধর্মান্ধ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর দাবি ও হুমকি আমলে নিয়েই বিসিসিআই মোস্তাফিজকে না খেলানোর নির্দেশ দিয়েছে কেকেআরকে।
ভারতীয় মুদ্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হওয়ার পরও মোস্তাফিজকে আইপিএল খেলতে না দেওয়ার ঘোষণায় ফুঁসে উঠেছে গোটা দেশ। শুধু ক্রিকেট বোর্ড নয়, বাংলাদেশের জনগণও কায়মনে চাচ্ছে, বাংলাদেশ যাতে কিছুতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যায়।
মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড শুধু বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেনি। ধর্মের দোহাই দিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদেরও হেয় করেছে। বাংলাদেশিরা এমনিতেই আবেগপ্রবণ, খুব স্বাভাবিকভাবেই এ স্পর্শকাতর ইস্যু গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছে। সবাই একাট্টা-কিছুতেই ভারতে খেলতে যাওয়া যাবে না। এবার আইপিএলও বাংলাদেশে সম্প্রচার নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পরামর্শে বিসিবি আইসিসির কাছে চিঠি দিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের জাতীয় দল ভারত যাবে না। বিকল্প দেশে খেলার ব্যবস্থা করা হোক।
শনিবার দুপুরের আগেই চিঠি চলে গেছে আইসিসির কাছে। রোববার যেহেতু সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আরব আমিরাতে আইসিসি কার্যালয় বন্ধ ছিল।
তাই কোনো রকম প্রতিক্রিয়া আসার প্রশ্নই ওঠে না। এদিকে গতকাল সোমবারও আইসিসি থেকে কোনো রকম প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আজ দুপুর গড়িয়ে এলেও আইসিসি থেকে কোনো রকম বার্তা আসেনি।
এদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল সোমবার মিডিয়াকে জানিয়েছেন, আইসিসি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত বা সিদ্ধান্ত জানানোর আগে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবে এবং কথা বলবে।
বিসিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত আইসিসির তরফ থেকে বিসিবির সাথে কোনো রকম যোগাযোগ করা হয়নি। এখন প্রশ্ন হলো, বিসিবির সাথে কথা বলতে গিয়ে আইসিসি কী কী বলতে পারে? সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীদের এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
অনেকেই ভাবছেন বাংলাদেশ ভারতে খেলবে না, আর আইসিসি তা মেনে হুট করে শ্রীলঙ্কায় খেলাগুলো শিফট করে দেবে? সেটা খালি চোখে ও আবেগ নিয়ে চিন্তা করলে খুব সহজ। বাস্তবে তত সোজা নয়। কারণ বাংলাদেশের ৭, ৯, ১৪ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ ছিল, সেগুলো ওই তারিখে শ্রীলঙ্কায় শিফট করতে গেলে পুরো ফরম্যাটটা ঢেলে সাজাতে হবে। বাংলাদেশের খেলা ৪টি শ্রীলঙ্কায় নিতে হলে শ্রীলঙ্কার মাটিতে অন্য কোনো দেশের ৪ ম্যাচ ভারতে দিতে হবে। না হয় দুিই দেশের দুটি করে ৪ ম্যাচ ভারতে আয়োজন করতে হবে।
এর বাইরে হোটেল বুকিং, এয়ার টিকিট, সব নতুন করে সাজাতে হবে। যেহেতু হাতে এখনো মাসখানেক সময় আছে, তাই সেটা করেও ফেলা সম্ভব। কিন্তু সব কথার বড় কথা হলো, কোনোভাবেই চিন্তা করবেন না যে আইসিসি সরাসরি বাংলাদেশের খেলা চারটি কলকাতা আর মুম্বাই থেকে কলম্বো, ক্যান্ডি, গল বা ডাম্বুলায় স্থানান্তর করবে।
বোর্ডের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইসিসি বিসিবিকে তিনটি প্রস্তাব দিতে পারে।
এক. বাংলাদেশ দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং আইসিসির নিরাপত্তা কমিটি সে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা সরেজমিনে পরখ করে তারপর বাংলাদেশ টিমকে ভারতে খেলতে যাওয়ার কথা বলবে।
দুই. বাংলাদেশের দাবি মেনে পুরো ফিকশ্চারে বদল এনে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ চারটি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেব।
তিন. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায়ও যদি বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে না চায়, তাহলে আইসিসি ওই ম্যাচগুলো ওয়াকওভার (বাংলাদেশের পয়েন্ট শূন্য ধরে) বলে গণ্য করতে পারে।
তবে ভেতরের খবর, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে না খেলার যে জোর দাবি তোলা হয়েছে, সেটিই বহাল থাকার সম্ভাবনা বেশি। কেননা আইসিসি এ ব্যাপারে নমনীয় থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো চলে যাবে শ্রীলঙ্কায়।
এখন এ তিনটি প্রস্তাবের কোনটি শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাস্তবায়ন করে, সেটিই দেখার।
এআরবি/এমএমআর/জেআইএম