বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বন্ধ থাকা ১০ তলাবিশিষ্ট ছাত্রী হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে চলতি মাসেই।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।
উপাচার্য বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রী হল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাজ বন্ধ ছিল। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাত্রী হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট পুনরায় চালু করার জন্য আবেদন করি। তার পরিপেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির মাধ্যমে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রায় ৭৭ কোটি ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘পিপিআর অনুযায়ী কাজটি আগের ঠিকাদার করবেন। তবে কাজটি তত্ত্বাবধান করার জন্য একজন পিপি লাগে। আগের যিনি পিপি ছিলেন তিনি এখন পলাতক হওয়ায় নতুন করে পিপি নিয়োগ দিয়ে কাজটা শুরু করতে হবে। আমরা অলরেডি পিপি নিয়োগের জন্য চিঠি দিয়েছি। পিপি এলে কাজ শুরু করবো।’
বিলম্বের কারণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক শওকাত আলী বলেন, ‘চলতি মাসেই আমরা কাজ শুরু করবো। ঠিকাদার এখনই কাজটি শুরু করতে চায়। তবে পিপি ছাড়া কাজটি করা সম্ভব না বলে কিছু দিন সময় লাগছে।’
এর আগে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারিতে শুরু হওয়া তিনটি প্রকল্পের কাজ সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নুর-উন নবীর সময়ে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিল। ছাত্রী হল, রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পাঁচতলা পর্যন্ত এবং স্বাধীনতা স্মারকের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়। তবে উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সময়ে নির্মাণাধীন দুটি ভবনের নকশা পরিবর্তন ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তি বরাদ্দের আবেদন করা হয়।
এ ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ বন্ধ করে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলোর কাজ বন্ধ হয়ে দেয়। এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন মেগা প্রকল্পের কাজ।
মো. আজিজুর রহমান/এসআর/এমএস