মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে নীলফামারীতে। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশায় আর হিম বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। যা এই জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ। শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোর ও রাতের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় খেটে খাওয়া মানুষের কাজের সুযোগ কমে গেছে, কমেছে দৈনিক আয়ও। অনেক শ্রমজীবী মানুষ বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখছেন।
এদিকে, শৈত্যপ্রবাহের কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি। এছাড়া শীতের তীব্রতায় বিশেষ করে তিস্তা তীরবর্তী ও ছিন্নমূল মানুষেরা খড়কুটো, কাঠ কিংবা পরিত্যক্ত কাগজ ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর বলেন, সকাল ৬টায় নীলফামারীর জেলার মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৯৬ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সাড়ে ৭ হাজার কম্বল ও ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তর থেকে ছয় উপজেলায় ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উপজেলা প্রশাসন ওই টাকা দিয়ে কম্বল কিনে বিতরণ করেছেন। নতুন করে আরও ৪০ হাজার কম্বলের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনকে শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
আমিরুল হক/এনএইচআর/জেআইএম