আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে হাত দিলে ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকবে না

ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে হাত দিলে ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকবে না বলে সতর্ক করছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সেটি ন্যাটো সামরিক জোটের সমাপ্তি ডেকে আনবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলেন। রোববার সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘২০ দিনের মধ্যে আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কথা বলবো।’

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বন্দি করার মাত্র একদিন পরেই এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আসা উচিত।

আরও পড়ুন>>গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই: ট্রাম্পগ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের বিশেষ দূত নিয়োগ, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে ডেনমার্কযুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ

এই ঘটনার পর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে উদ্বেগ বেড়েছে। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং সে কারণে এটি ন্যাটোর অংশ।

ড্যানিশ টেলিভিশন চ্যানেল টিভি২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরেকটি ন্যাটোভুক্ত দেশের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তাহলে সবকিছু থেমে যাবে। এর মধ্যে ন্যাটোও রয়েছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠেছে, সেটিও ভেঙে পড়বে।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে দ্বীপটির জন্য বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার প্রকাশ্য সমর্থক ল্যান্ড্রি।

এদিকে ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙানো একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ছবির ওপর লেখা ছিল একটি শব্দ—‘SOON’ (শিগগিরই)।

এই পোস্টকে ‘অশ্রদ্ধাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন। তিনি এক্সে লেখেন, ‘দেশ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে—এমন প্রতীকী অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নয়, যা আমাদের মর্যাদা ও অধিকারকে উপেক্ষা করে।’

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশ বিক্রির জন্য নয়, আর আমাদের ভবিষ্যৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নির্ধারিত হয় না।

কেন গ্রিনল্যান্ড চায় যুক্তরাষ্ট্র?

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। পাশাপাশি দ্বীপটির বিপুল খনিজ সম্পদও ওয়াশিংটনের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

রোববার ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডজুড়ে রুশ ও চীনা জাহাজ ছড়িয়ে রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, আর ডেনমার্ক একা এটা সামাল দিতে পারবে না।

তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন দ্বীপবাসীর উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা এমন পরিস্থিতিতে নেই যে রাতারাতি কেউ এসে দেশ দখল করে নেবে। তাই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সহযোগিতাই চাই।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি এমন নয় যে যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই গ্রিনল্যান্ড দখল করে নিতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/