রাজধানীর পল্লবী থেকে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ চারজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর থানা থেকে বিদেশি অস্ত্র লুট করে একটি চক্র। এসব অস্ত্র মাদককারবারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ এলাকায় ভীতি প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করা হতো।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর-১ এর পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. জুয়েল আরমান হ্যাচকা আরমান (২৬), মো. রিপন কেনি (৩৫), মো. জাহিদ (২৭) এবং মো. আরমান হোসেন (৩১) বাবা আরমান।
শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য র্যাব দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জানুয়ারি ভোরে র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানার আরমান কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের পাশে একটি নির্মাণাধীন বাসায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ অস্ত্রসহ চার সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে।
অভিযানের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় র্যাব চারজনকে গ্রেফতার করেন।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তাদের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান পরিচালনা করে একটি বিদেশি পিস্তল, ১ রাউন্ড তাজা গুলি, চারটি দেশীয় অস্ত্র এবং ইয়াবা ও ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
র্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, মূলত ৫ আগস্টের আগে সরকারি নির্দেশনা মেনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এই অস্ত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল। অভ্যুত্থানের পর লুট করে নেওয়া হয় জাপানি তৈরি এই অত্যাধুনিক অস্ত্র।
তিনি বলেন, বিভিন্ন থানায় তাদের নামে একাধিক মাদক ও ছিনতাই মামলা রয়েছে। এই চক্রের নামে ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কেআর/এমআরএম/এমএস