আন্তর্জাতিক

গ্রীনল্যান্ড রক্ষায় একজোট ইউরোপের ক্ষমতাধর ৬ দেশ

২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং ভূভাগের অখণ্ডতা রক্ষায় একজোট হয়েছে ইউরোপের ক্ষমতাধর ৬ টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এসব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের একটি যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে।

নেতারা গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন যে, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সীমানার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তারা আরও জোর দিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়, বাইরের কোনো দেশের নয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরোপের জন্য একটি মূল অগ্রাধিকার এবং অনেক ইউরোপীয় দেশ এই অঞ্চলকে নিরাপদ রাখার জন্য উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

বিবৃতিতে নেতারা উল্লেখ করেছেন, আর্কটিকে নিরাপদ করতে হলে এটি ন্যাটো সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে, জাতিসংঘের সাংবিধানিক নীতিসমূহ মেনে করতে হবে যার মধ্যে রয়েছে সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সীমানার অবিনাশ্যতা। এগুলো সার্বজনীন নীতি এবং আমরা এগুলো রক্ষা করতে পিছপা হব না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রচেষ্টায় একটি প্রয়োজনীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে। ন্যাটো সদস্য হিসেবে এবং ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়ে যা লঙ্ঘন করা অপরাধের সামিল হবে।

এছাড়া ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, নর্ডিক দেশ হিসেবে তারা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সামরিক উপায়ে তা অর্জনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন ট্রাম্পকে হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলে রুশ ও চীনা বাহিনীর সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে এবং গ্রীনল্যান্ড দ্বীপ রক্ষা করার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিরোধ করতে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বিকল্প সিদ্ধান্ত হিসেবে সামরিক শক্তিও ব্যবহার করা হতে পারে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

কেএম