আন্তর্জাতিক

মাদুরো ছিলেন সাহসী আর সিলিয়া ফ্লোরেস প্রখর বুদ্ধিমতী

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর প্রথম আদালতের শুনানিতে নিজেকে ‌‘নির্দোষ’ দাবি করার আগে সিলিয়া ফ্লোরেস স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের ফার্স্ট লেডি।

কিন্তু মাদুরো নিজে এবং এই দম্পতির ঘনিষ্ঠরা এ বিষয়ে একমত যে তিনি দেশটিতে ফার্স্ট লেডির চেয়েও অনেক বেশি কিছু ছিলেন। নিউইয়র্কে আত্মসমর্পণের আগে মাদুরোর শাসনামলের অন্যান্য ব্যক্তিত্বের তুলনায় কখনো কখনো নিজের ক্ষমতার চেয়েও বেশি ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন ফ্লোরেস।

মাদুরো প্রায়ই বলতেন যে, ফ্লোরেস ফার্স্ট লেডি নন বরং তিনি ছিলেন ‌‘প্রথম যোদ্ধা’। এমন মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত সম্মুখভাগে ফ্লোরেসের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

১৯৯০-এর দশকে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হুগো শ্যাভেজের সঙ্গে দেখা করার সময় ভেনেজুয়েলার একটি কারাগারে তাদের দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। দুজনকে এখন নিউইয়র্কের একটি কারাগারে রাখা হচ্ছে এবং ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ’ এবং মাদক পাচারের অভিযোগের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

মার্কিন আইনজীবী এবং লেখক ইভা গোলিঙ্গা বলেন, প্রথমত ফ্লোরেস মাদুরোর স্ত্রী হলেও তিনি আরও বেশি কিছু। তিনি মাদুরোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠদের একজন এবং রাজনীতিতে তার উত্থানে ঘনিষ্ঠভাবে সহায়তা করেছেন। শ্যাভেজের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় বেশ কয়েকবার এই দম্পতির সঙ্গে দেখা করেছিলেন ইভা গোলিঙ্গা।

মার্কিন এই আইনজীবী আগের কথা স্মরণ করে বলেন, ফ্লোরেস ছিলেন আরও বুদ্ধিমতী এবং মাদুরো ছিলেন আরও সাহসী। একজন অত্যন্ত সফল রাজনৈতিক পরিচালক হিসেবে তার দক্ষতার কথা উল্লেখ করে সবকিছুতেই ফ্লোরেসকে মাদুরোর সমর্থনের স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন ইভা গোলিঙ্গা।

যখন তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয় সে সময় মাদুরো ছিলেন একজন বাস ড্রাইভার এবং ইউনিয়ন নেতা। অন্যদিকে মাদুরোর চেয়ে ছয় বছরের সিনিয়র ফ্লোরেস ছিলেন একজন আইনজীবী। তিনি শ্যাভেজকে মুক্ত করার জন্য আইনি দলের অংশ ছিলেন।

১৯৯৯ সালে শ্যাভেজ যখন প্রথম ক্ষমতায় আসেন, তখন মাদুরো এবং ফ্লোরেসকে পুরস্কৃত করা হয় এবং উচ্চপদে বসানো হয়। ধীরে ধীরে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার লাভ করতে শুরু করে। মাদুরো পরবর্তীতে সর্বোচ্চ পদে পৌঁছান তবে ফ্লোরেসও খুব বেশি পিছিয়ে ছিলেন না। ২০০৬ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে জাতীয় পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সময়কালে তিনি তার প্রায় ৪০ জন স্বজনকে সরকারি পদে নিয়োগ করেন। এই তথ্য প্রকাশ পেলে তিনি সাংবাদিকদের ‌‘ভাড়াটে’ বলে উল্লেখ করেন এবং প্রেসকে কংগ্রেসের খবর সংগ্রহ করতে নিষেধ করেন।

প্রায় দুই দশক একসাথে থাকার পর, ২০১৩ সালে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর মাদুরো শপথ গ্রহণের কিছুক্ষণ পরেই তারা বিয়ে করেন। তিনি হয়তো সরাসরি সরকারের মুখ ছিলেন না। কিন্তু সরকারের পেছনে তার শক্তিশালী প্রভাব ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভেনেজুয়েলার অনুসন্ধানী সাংবাদিক কাস্তো ওকান্দো বলেন, একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে ফ্লোরেস বিচার বিভাগের ওপর বিশেষ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

টিটিএন