জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
মাহবুব উল আলম হানিফ ছাড়া মামলার অন্য তিন আসামি হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি পেশ করা শেষে তাকে জেরা করেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে (স্টেট ডিপফেন্স) নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
সাক্ষী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়ায় আমরা যখন জমায়েত হতে শুরু করি তখন সমগ্র শহরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা সমগ্র দেশে সংঘটিত নির্মম হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, একটি বিজিবির গাড়িসহ থানাপাড়া বাঁধ এলাকায় গিয়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে, যাতে ওই রাস্তা দিয়ে কোনো আন্দোলনকারী শহরে প্রবেশ করতে না পারেন। থানাপাড়া এলাকা ঘনবসতি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন।
সাক্ষীর জবানবন্দিতে উঠে আসে, ওইদিন (৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিভিন্ন দিক থেকে আসামি হানিফের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী এবং পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করতে থাকলে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এছাড়া শত শত আন্দোলনকারী গুলিতে আহত হন। মৃত ছয়জনের মধ্যে ১৪/১৫ বছরের শিশু আব্দুল্লাহসহ বাবলু ফরাজি, বাবু, উসামা এবং আরও দুজন ছিলেন।
তিনি বলেন, আসামি হানিফের নির্দেশনায় আসামি আতাউর রহমান আতা, সদর উদ্দিন ও আজগর আলী কুষ্টিয়ায় এসব হত্যাকাণ্ডে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করেন। আমি বিভিন্ন মিডিয়া ও ব্যক্তির মাধ্যমে হানিফের নির্দেশনার কথা জানতে পারি।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয়জন হত্যার শিকার হন। একই সঙ্গে আহত হন বেশ কয়েকজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাহবুব আলম হানিফসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। গত বছরের ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় হানিফসহ চারজন আসামি। সবাই পলাতক। হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এফএইচ/বিএ/এমএস