জাতীয়

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনে খসড়া অধ্যাদেশ

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য একটি খসড়া অধ্যাদেশ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তারা এখন খসড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নিচ্ছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ ও এর আশেপাশের এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার জন্য এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করতে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এজন্য এ অধ্যাদেশ করা হচ্ছে।

এ অধ্যাদেশের অধীনে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। কর্তৃপক্ষের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য থাকবেন। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও পাঁচজন প্রতিনিধি থাকবেন। চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হবেন। চেয়ারম্যানের মেয়াদ হবে তিন বছর, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি চেয়ারম্যান বা সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়োগ পাবেন না।

অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মতো নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা দেওয়া হয়েছে খসড়া অধ্যাদেশে। কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জের আওতাভুক্ত এলাকায় আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ভূমি ক্রয় বা লিজ গ্রহণ, ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি বিলিবন্দেজ ও উন্নয়ন ফি ধার্যের ক্ষমতা পাবে। মহাপরিকল্পনার চিহ্নিত বা উল্লেখিত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশে ভূমি ব্যবহার করা যাবে না।

এ বিধান লঙ্ঘন করলে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে খসড়া অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃত্রিম জলাধার খনন এবং নিচু ভূমি ভরাট বা প্রাকৃতিক জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ খননকার্য স্থগিত বা বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারবে। এ নির্দেশ অমান্য করলে প্রথমবার দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, পরবর্তী সময়ে দুই থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড ও দুই থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নদী, খাল-বিল, পুকুর, ডোবা ও প্রাকৃতিক জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। একইভাবে লঙ্ঘনকারীর জন্য প্রথমবার দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড এবং পরবর্তীসময়ে দুই থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড ও দুই থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড ধার্য থাকবে।

খেলার মাঠ, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ প্রযোজ্য হবে বলে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।

আরএমএম/এমকেআর/এমএস