খেলাধুলা

‘আবেগ নয়, ভবিষ্যৎ ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত’

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার মতে, ‘আবেগ নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে, মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে টি-টেন ফরম্যাটে জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন তামিম ইকবাল। তার আগে টুর্নামেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

কিছুদিন আগে হওয়া বিসিবি নির্বাচনে তামিম ইকবাল সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি যদি বোর্ডে থাকতেন, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে বিশ্বকাপ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নিতেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের মত তুলে ধরেন তামিম।

তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমি যদি এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় থাকতাম, তবে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতাম ভবিষ্যৎ চিন্তা করে। বর্তমান পরিস্থিতি জটিল, তাই হুটহাট মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটা মনে রাখতে হবে, আলোচনা করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবেই দেখেন তিনি। যদিও সরকারের সঙ্গে বিসিবির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তবুও বোর্ডের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘সরকার অবশ্যই একটি বড় অংশ, আলোচনা করতেই হবে; কিন্তু বিসিবি যদি স্বাধীন সংস্থা হয়, তাহলে বোর্ডের নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্ত থাকা উচিত। তারা যদি মনে করে কোনো সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের জন্য ভালো, তাহলে সেটাই নেওয়া উচিত।’

দর্শক বা সাধারণ মানুষের আবেগকে সম্মান জানালেও, শুধুমাত্র আবেগের ওপর ভিত্তি করে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ‘আজকের একটি সিদ্ধান্ত আগামী ১০ বছর পর বাংলাদেশের ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের ওপর কী প্রভাব ফেলবে— সেটার মাথায় রাখা প্রয়োজন। সে আলোকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।’

বর্তমানে বোর্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও অনেক তথ্য তিনি গণমাধ্যম থেকেই জানতে পারছেন বলে জানান তামিম। তবে যারা সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছে বেশি তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবুও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভ্যন্তরীণ আলোচনার ওপর জোর দিয়ে তামিম বলেন, ‘ইন্টারনালি আলোচনা না করে হুটহাট পাবলিক কমেন্ট করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। একবার মন্তব্য করলে সেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অর্থনৈতিক দিকটিও স্মরণ করিয়ে দেন তামিম ইকবাল। তার মতে, দেশের ক্রিকেটের প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশ অর্থায়ন আসে আইসিসি থেকে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করা জরুরি।

খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে এসে তিনি মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাকে ‘নিশ্চয়ই দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন। ‘খেলোয়াড়রা পেশাদার। তারা প্রস্তুতি নেয়, কিন্তু অনিশ্চয়তা কেউ পছন্দ করে না’- বলেন তামিম।

একই সঙ্গে তামিম প্রশ্ন তোলেন, বিপিএলকে যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ধরা হয়, তবে চট্টগ্রামের মতো হাই-স্কোরিং ভেন্যুতে ম্যাচ হচ্ছে না কেন? তিনি একে পরিকল্পনার ঘাটতির উদাহরণ হিসেবে দেখেন।

সবশেষে তামিমের আহ্বান, বিসিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা যেন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেন, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে মঙ্গলজনক হয়। ‘আশা করি, এসব আলোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো পরিকল্পনা আমরা দেখতে পাব’- যোগ করেন তিনি।

এআরবি/আইএইচএস/