মাদারীপুরে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের কৃত্রিম সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিনে ১ হাজার ৩০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর শহরে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা বেশি। গত চারদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছে না শহরবাসী। কিছু দোকানে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মজুত কম থাকার কথা জানিয়ে দাম বেশি রাখছেন বিক্রেতারা। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে ১ হাজার ৩০০ টাকার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। অনেকেই আবার দাম বেশি দিয়েও গ্যাস কিনতে পারছেন না বলে জানা যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ৪ জানুয়ারি গ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়। ডিলারদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই মূল্য সমন্বয় করেছে। এছাড়াও অভিযান চালিয়ে ডিলারদের হয়রানি করা হচ্ছে। এদিকে, ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করার দাবি জানিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন ব্যবসায়ী নেতারা। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে মাদারীপুরেও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ আছে। পরবর্তী নির্দেশনা আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
নাম না প্রকাশে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কয়েকদিন ধরেই মাদারীপুরে গ্যাস সরবরাহ নেই। তাছাড়া কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আমাদের দাবি মানা না হলে গ্যাস সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। তবুও যাদের আগে থেকে মজুত আছে, তারা গ্যাস বিক্রি করছে। তবে চাহিদা বেশি থাকায় দাম একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে।
মাদারীপুরের পুরানবাজার এলাকার বাসিন্দা আ. সাত্তার হোসেন বলেন, সকালে গ্যাস কিনতে গিয়ে দেখি ১ হাজার ৮০০ টাকা চায়। পরে তাদের অভিযানের কথা বললে তখন ১ হাজার ৪৮০ টাকা রেখেছে।
আরেকজন গৃহিণী শাহনুর বেগম বলেন, সকালে নাস্তা বানাতে গিয়ে দেখি গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। তখন শকুনি এলাকার একটি দোকানে গ্যাস কিনতে যাই। প্রথমে দোকানদার বলেন, গ্যাস নেই। পরে বলেন, ১ হাজার ৮০০ টাকা চাইলে একশ টাকা কম নিয়েছেন। হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বাড়ায় আমরা সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছি।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করার খবর পেয়ে গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাহলে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/কেএইচকে/এমএস