সিরাজগঞ্জের তাড়াশ জুড়ে তিন ফসলি ধানি জমিতে চলছে অবাধে পুকুর খনন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে আইনের তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। যত্রতত্র পুকুর খননের ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে হাজার হাজার বিঘা জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, গভীর রাতে খননকাজ করে দুর্বৃত্তরা। অভিযানে গেলে টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তারা যেখানেই খবর পাচ্ছেন, সেখানেই অভিযানে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
উপজেলা কৃষি ও মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, তাড়াশে মোট কৃষিজমি ২৯ হাজার ৭৩২ হেক্টর। যার মধ্যে ৭ হাজার বিঘা জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে আছে ৷ আর ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ৪ হাজার ২২৭টি পুকুর। পুকুরগুলোর গত এক দশকে খনন করা হয়েছে। এসব পুকুর খনন করতে কৃষি বিভাগ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি। যদিও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন-২০১৬ (খসড়া)-এর ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনোভাবেই কৃষিজমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এছাড়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ ও তোয়াক্কা করা হয়নি। আর ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ আইনে কৃষিজমি, পাহাড় ও টিলার মাটি কেটে ইট তৈরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া ও গোয়াল মৌজার মাঝে বিস্তীর্ণ মাঠের ধানি জমি কেটে প্রায় ৬০ বিঘা, মহিষলুটি গ্রামে ৫০ বিঘা, পংরৌহালী বিলের ২৫ বিঘা, চকরোচুল্লা বাবলাতলার পাশে ২৫ বিঘা, মান্নান নগর সড়কের সঙ্গে ঘরগ্রাম মাঠে ৫ বিঘা ও পঁওতা-তেতুলিয়া সড়কের ব্রিজের মুখ বন্ধ করে অবাধে পুকুর খননের কাজ চলছে। এছাড়া তাড়াশ পৌর এলাকার কাউরাইল, সোলাপাড়া, আমশরা ও পশ্চিম ওয়াপদা বাঁধের আশপাশে পুকুর খনন কাজ চলছে।
বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, বাঁশবাড়িয়া ও গোয়াল মৌজার মাঝে ৬০ বিঘা আয়তনের ধানি জমি খনন করা হলে শাস্তান ও সোলাপাড়া মাঠের প্রায় হাজার বিঘা কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়বে।
মাধবপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ছোহরাব হোসেন বলেন, তাড়াশ সদর ইউনিয়নের মাধবপুর, মথুরাপুর, বিদিমাগুড়া, চক গোপিনাথপুর, বোয়ালিয়া ও সোলাপাড়া গ্রাম এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঠে-মাঠে পানি আটকে আছে ৬ বছর ধরে। আগে এসব মাঠের জমিতে তিন ফসলের আবাদ হতো। কিন্তু যত্রতত্র অবৈধ পুকুর খনন করায় প্রায় কয়েক হাজার বিঘা জমি পানিতে ডুবে আছে।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তিনি সহযোগিতা করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ইতোমধ্যে ৪টি পুকুরে জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
এম এ মালেক/কেএইচকে/এমএস