রাজনীতি

পায়ে হেঁটেই অফিসে, তারেক রহমানের সাধারণ হয়ে ওঠার বার্তা

কালো স্যুট, মুখে নির্লিপ্ত দৃঢ়তা। চারপাশে অদৃশ্য সতর্কতা। কিন্তু নেই কোনো গাড়িবহর। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানের ফুটপাতে পায়ে হেঁটে চলতে দেখা গেলো বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। রাজনীতির ভাষায় যা নিছক হাঁটা নয়, একটি বার্তা। এ বার্তা অসাধারণ হয়েও সাধারণ হয়ে ওঠার।

দুই সপ্তাহও হয়নি দেশে ফিরেছেন। অথচ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে হেঁটেই তিনি রওয়ানা দেন গুলশান-২ এর ৮৬ নম্বর রোডে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্যে, বিকাল পৌনে ৪টায় যাত্রা শুরু করে ৪টা ৪ মিনিটে তিনি অফিসে পৌঁছান।

দলীয় সূত্র বলছে, সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক। পূর্বনির্ধারিত কোনো কর্মসূচি নয়। তারেক রহমান হঠাৎই হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। মুহূর্তে তৎপর হয়ে ওঠেন নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা। তবু দৃশ্যটি ছিল ব্যতিক্রম- ঢাকার রাজনীতিতে সচরাচর যা দেখা যায় না।

কালো স্যুট পরিহিত তারেক রহমানের পাশে ছিলেন আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম শামসুল ইসলাম। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি ছিলেন জনতার চোখের সামনেই।

ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি। সোহরাব উদ্দিন নামে এক পথচারী বলেন, প্রথমে বুঝতেই পারিনি। হঠাৎ দেখি, তারেক রহমান সাহেব ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সঙ্গে সিভিল ড্রেসে কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। এমন দৃশ্য আগে দেখিনি।

দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ব্যক্তিগত শোক, মা ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে করেছে আরও নীরব, আরও সংযত। তবুও থেমে নেই কার্যক্রম।গুলশানের কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন তিনি। প্রতিদিনই বৈঠক হচ্ছে বিদেশি কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে।

শুক্রবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎজ এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই প্রেক্ষাপটে সাংগঠনিক খোঁজখবর, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকও চলছে। রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানের কার্যালয়েই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।

কেএইচ/এএমএ/এমএস