তোমাকে ছাড়া
তোমাকে ছাড়া কী চলবে না আমার?চলবেবুকের ভেতর বিছিয়ে রেখেছি শারদীয় সুঘ্রাণ,দুধশাদা পালকের জড়াজড়ি, মুঠো ঘুম, আরএকটু দূর থেকে হেঁটে আসা সকাল।মৌনতার ভয়ে যখনই তালুবন্দি নক্ষত্ররা গেছে সরেপাথরে রেখেছি চুম্বনদীঘল সমুদ্রস্নান শেষে যদি না-ও ফিরে আসোহাতের বাজুতেই খুঁজে নেবো তোমার নীল ময়ূরি।জোছনার রেণু মেখে, নিরন্তর হাঁটুজল ভেঙে সুদূরতমর কবজ পরে যদি চলে যাও অচেনা গান্ধারেকোলাহলের মৃত্যু হলে অশ্বখুরে ধ্বনিত কুচকাওয়াজ ছেড়েছাইরঙা সারসদের উড়ন্ত প্রণয়ের এই বেলাভূমি ছেড়ে—মনে রেখোপথেরও পথ আছে, আছে আকাশেরও আকাশ;...তোমার ফেলে যাওয়া ভারাক্রান্ত রাতে সম্মোহনের ফুল হয়ে ফুটবো।
****
দরজা
তোমাকে নদী কিংবা পর্বত হতে বলিনি আমি, একটু থিরথিরে ঢেউ কিংবা পোড়ামাটি হও; তাতেই খুঁজে নেবো তার মুখ। যে সুপ্রাচীন সাম্রাজ্যের উন্মাদ দেবতারা মমির গুহা থেকে দেখে প্রত্যাবর্তনের আয়না এবং ভোরের জাফরানি সূর্য প্যাপিরাস ও খুনি গোলাপের দ্বৈরথ; সেই সাম্রাজ্যের কোনো এক সুলোচনা গোপন দরজা খুলে রেখেছিল আমার জন্য। হেরোডোটাসের একপ্রস্থ পোশাক পরে আমি সেই দরজা খুঁজি আজও। কখনো ঘুমের পারদ পুড়িয়ে পান্থশালায় বসি, অন্ধকারের আয়োজন শেষে বেরিয়ে পড়ি সংশপ্তকের সওয়ার হয়ে। ভয়ের বজ্রশাসন, কোতোয়ালের আড়চোখের আগুন, বর্ণনাকুশল মিথ্যের ফানুস গেঁথে দিই শঙ্খচিলের পালকে।আকাশপ্রান্তের সমান্তরাল প্রচ্ছদ ঘেঁটে এবং সময় মূর্ছা গেলে ভাতপ্রবণ সন্ধ্যার টানে ফিরে আসি তোমার অবিনাশী মায়ার পাশে; যেখানে মোমের সন্ন্যাস তপস্যা করে ঘাতকের বেশে—যদিও অবশ্যম্ভাবী খুনের প্লট নেই তার। অন্বেষণের রক্তকণা ভিড় করে জমে করোটির জলসত্রে, প্রশ্নচিহ্ন বিমর্ষ মাথা ঠোকে জলঙ্গা নীল দেওয়ালে, ‘তোমাকে পাই, তাকে পাই না কেন? কোথা সেই দরজা?’চলছে শুলুক-সন্ধানের আত্মমগ্ন মৈথুন, বরফকাল অথবা দাহকাল চলবে আরও; হয়তো অনাদিকাল...
এসইউ