প্রবাস

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে কেসুমার তৎপরতা জোরদার

শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করতে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (কেসুমা) ৭ জানুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

বুধবার সকালে মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি রামানন রামাকৃষ্ণন, উপমন্ত্রী ওয়াইবি দাতুক খাইরুল ফিরদাউসকে সঙ্গে নিয়ে কেসুমার অধীনস্থ প্রধান সংস্থা জাবাতান তেনাগা কেরজা সেমেনানজুং মালয়েশিয়ায় একটি কর্মপরিদর্শন ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই সংস্থাটি দেশের শ্রম ব্যবস্থাপনায় ন্যায়সঙ্গত, দক্ষ ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিদর্শনকালে জেটিকেএসএম-এর বর্তমান কার্যক্রম, বিশেষ করে শ্রম আইন প্রয়োগের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আইন মান্যতা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে একটি ব্রিফিং দেওয়া হয়।

বৈঠকে শ্রম আইন প্রয়োগের পদ্ধতি ও কৌশল আরও কার্যকর, বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নতুন ধারণা ও প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। শ্রমবাজারের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ কাঠামো আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয় মোবাইল লেবার কোর্ট চালুর পরিকল্পনা, যা শ্রম আদালতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেটে এ উদ্যোগের জন্য ৫০ লাখ রিঙ্গিত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই মোবাইল আদালত কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার শ্রমিক ও নিয়োগকর্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে দূরত্ব, সময় ও ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা কমে এসে শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া কেসুমা ও জেটিকেএসএম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমন্বিত রেকর্ড ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে, সেবা গ্রহণ সহজ হবে, শিল্পখাতের জন্য ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সহায়ক হবে এবং সেবাদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুসংহত হবে।

সার্বিকভাবে এসব উদ্যোগ দেশের শ্রম ব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করে তুলতে কেসুমার ধারাবাহিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন, যার মূল লক্ষ্য-শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক শ্রম পরিবেশ গড়ে তোলা।

এমআরএম/এমএস