প্রবাস

মালয়েশিয়ায় ব্যালট পেতে চরম বিড়ম্বনার শিকার প্রবাসীরা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করলেও বিদেশে তা সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তিতে এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন প্রযুক্তি পেশাজীবী ও ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল সারওয়ার।

বুধবার পাভেল সারওয়ার জানান, প্রবাস থেকে দেশের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল অত্যন্ত আনন্দের। কিন্তু মালয়েশিয়ার পোস্টাল সার্ভিস পোস লাজু-এর ট্র্যাকিং জটিলতায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই হতাশায় রূপ নেয়।

অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ে তার ব্যালট পেপারটি ‘ডেলিভার্ড’ দেখালেও বাস্তবে তিনি তা পাননি। এমনকি তাকে কোনো ফোন কল বা নোটিশও দেওয়া হয়নি।

পরে তিনি কুয়ালালামপুরে Pos Laju-এর প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি বলে পার্সেলটি ‘রিটার্ন’ করা হয়েছে। তবে পাভেল সারওয়ারের দাবি, তাকে কোনো কলই করা হয়নি। সেখানে গিয়ে তিনি আরও লক্ষ্য করেন, একই অভিযোগ নিয়ে আরও চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসী সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পাভেল সারওয়ার বলেন, ‌‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমার অধিকার। কিন্তু পোস্টাল সার্ভিসের এমন গাফিলতি দেখে আমি হতাশ। আমি নিজে অফিসে গিয়ে ব্যালট সংগ্রহ না করলে আমার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকত না। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে একই সমস্যায় পড়তে দেখেছি। আমরা চাই না, এমন অসতর্কতায় কারো নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হোক।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আরেকটি বড় কনসার্ন হলো-আপনার ট্র্যাকিং নম্বর জানা থাকলে অন্য যে কেউ খুব সহজেই আপনার ব্যালট সংগ্রহ করে নিতে পারে। Pos Laju অফিসে কোনো আইডি ভেরিফিকেশন ছাড়াই শুধু নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখে সাইন করলেই পার্সেল দেওয়া হচ্ছে। এতে কার পার্সেল কে নিচ্ছে, তা কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে?’

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন, শুধু অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ের ওপর নির্ভর না করে Pos Laju-এর ওয়েবসাইটে নিয়মিত ট্র্যাকিং নম্বর যাচাই করতে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কলের অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি, যেন ব্যালটটি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করা যায়।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও সফল করতে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা প্রবাসীদের নিয়মিত তথ্য প্রদান, দিকনির্দেশনা ও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এমআরএম/এমএস