ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ছাত্রদল কর্মী সাদ্দাম হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি, স্বেচ্ছাসেবক দলের পদ স্থগিত হওয়া জেলা আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপের ফাঁসি ও দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ -সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।
এসময় যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রুমেল উদ্দিন আহমেদ, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ আল-আমিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. আবুল হাসনাত ভজন ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেরাজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবাদ সভায় স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে বক্তব্য রাখেন নিহত সাদ্দামের স্ত্রী ফারজানা আক্তার টিনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. আবুল হাসনাত ভজন তার বক্তব্যে বলেন, সাদ্দাম হত্যার পর দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার না করে পদ স্থগিত রেখেছে। হত্যা মামলার একজন আসামিকে বহিষ্কার না করে পদ স্থগিত রেখে দলের সুনামক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তিনি দিলীপের স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, সে (দেলোয়ার হোসেন দিলীপ) কারাগারে আরাম আয়েশ করছে। অথচ সাদ্দামের এতিম সন্তান তার বাবাকে খুঁজে দিশেহারা। তিনি সাদ্দাম হত্যার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হত্যাকারীর ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান। অন্যথায় থানা ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
নিহত সাদ্দাম হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ছিলেন। গত ২৭ নভেম্বর রাতে শহরের কান্দিপাড়া এলাকা থেকে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. মস্তু মিয়া বাদী হয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলীপকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব অভিযান চালিয়ে ঢাকা থেকে প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটি তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমএন/জেআইএম