বিয়ে বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্য বর্তমানে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাহসান খান ও রোজার আলাদা হওয়ার পর বিষয়টি আরেকবার প্রকাশ্যে এসেছে এবং জনমতকে প্রভাবিত করেছে। দুই প্রজন্মের মতের অমিল ও জীবনধারার ভিন্নতা সম্পর্ককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
প্রতিটি প্রজন্মেরই রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। যোগাযোগের ধরন, মূল্যবোধ এবং সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি প্রজন্মভেদে ভিন্ন। এক প্রজন্মের সঙ্গে অন্য প্রজন্মের এই পার্থক্যই মূলত ‘জেনারেশন গ্যাপ’ হিসেবে পরিচিত।বিয়ে বা প্রেমের ক্ষেত্রে এই জেনারেশন গ্যাপ বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পছন্দ-অপছন্দ, জীবনধারা, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও প্রযুক্তি ব্যবহার-সব ক্ষেত্রেই প্রজন্মভেদে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দেখা দেয়। কেন এমন হচ্ছে নতুন প্রজন্ম, অর্থাৎ জেন জি, প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল জীবনধারার সঙ্গে বড় হয়েছে। তারা সম্পর্কের মধ্যে অতিরিক্ত স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্পেসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এই প্রত্যাশা পূরণ না হলে, তারা দ্রুত দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়।
ধৈর্য বা আপস করার মানসিকতা কম থাকায় ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বা সমস্যা দেখা দিলে ‘ছেড়ে দাও’ মনোভাবও প্রকাশ পায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পরিবারের প্রত্যাশা এবং পারিপার্শ্বিক চাপও তাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।
জেন জি প্রজন্ম সাধারণত সবকিছু সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করতে পছন্দ করে এবং সম্পর্কের অনেক দিকেই বিভিন্ন বিকল্প বা অপশন রাখতে ইচ্ছুক থাকে। এ কারণে তাদের সম্পর্কের ধরন আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি প্রদর্শনীমূলক ও বহুমুখী।
অপরদিকে, জেন এক্স সরাসরি যোগাযোগ, গোপনীয়তা এবং পারিবারিক মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে সহজে বিরক্ত হয় না, বরং বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায়।
কাজের ধারণা ও ক্যারিয়ারের দিক থেকে জেন এক্স স্থায়িত্ব পছন্দ করে, যেখানে জেন জি ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স, ফ্রিল্যান্সিং এবং নতুন সুযোগের দিকে আগ্রহী। পপ কালচারে ভাষা, সংগীত এবং বিনোদনের পছন্দেও তাদের মধ্যে যথেষ্ট ব্যবধান দেখা যায়। অর্থনৈতিক দিক থেকেও পার্থক্য আছে-জেন এক্স ভবিষ্যতে সঞ্চয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, আর জেন জি নিজের অভিজ্ঞতা এবং শখে খরচ করতে পছন্দ করে। এই পার্থক্যগুলো সম্পর্ক এবং পারিবারিক জীবনেও প্রভাব ফেলে।
কারণ যা হতে পারেআবেগতাড়িত হয়ে দ্রুত সম্পর্ক শুরু করলে অনেক সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে। সম্পর্কের প্রথম ধাপে পছন্দ-অপছন্দের পার্থক্য স্পষ্ট হয়, যা কখনো কখনো ভুল বোঝাবুঝি এবং দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।
এক্স-জেনারদের ধৈর্য এবং পরিকল্পিত দৃষ্টিভঙ্গি কখনো কখনো জেন জির দ্রুত পরিবর্তনশীল মনোভাবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করে। অন্যদিকে, জেন জি যারা নতুন প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং বা স্টার্টআপ জীবনধারায় অভ্যস্ত, তারা এক্স-জেনারদের স্থিতিশীলতা ও প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি সঠিকভাবে বুঝতে সময় নিতে পারে না।
বয়সের ব্যবধানের কারণে হরমোনাল পরিবর্তন এবং মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে অবিশ্বাস জন্ম নিতে পারে এবং সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে পূর্ববর্তী প্রজন্মের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় এবং তা সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে যা করতে পারেনএকে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা, যোগাযোগ খোলামেলা রাখা এবং পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সীমারেখা স্পষ্ট করা সম্পর্কের প্রজন্মগত দূরত্ব কমায়। জেন জি থেকে প্রযুক্তি ও নতুন ধারণা শেখা যায়, জেন এক্স থেকে ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধৈর্য এবং একে অপরকে বোঝার চেষ্টা মূল চাবিকাঠি।
ছোটখাটো আলোচনা, দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা শেয়ার করা এবং একে অপরের পছন্দে মানিয়ে নেওয়াই সম্পর্ককে শক্তিশালী করে।
সূত্র: মিডিয়াম, দ্য মিডস্ট ও অন্যান্য
আরও পড়ুন:ফোনে রাখা প্রাক্তনের ছবি যেভাবে ক্ষতি করে যে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায়
এসএকেওয়াই/