দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির ফাইনাল। তাই নজরটাও বেশি ছিল ফুটবল ভক্তদের। তবে শুরুটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত গড়ালো থ্রিলারে। শ্বাসরুদ্ধকর সেই ফাইনালে রাফিনহার জোড়া গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা।
জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে ৫ গোলের ম্যাচটির ৪ গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে। এরমধ্যে ৩টিই হয়েছে আবার প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে।
ম্যাচের শুরুর দিকে অবশ্য সাদামাটা লড়াই হয়েছে। কেউ কারো চেয়ে এগিয়ে ছিল না। প্রথমার্ধের বিরতির আগে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে বার্সেলোনা। ৩৬তম মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে রাফিনহা নিচু শটে বল জড়ান জালের দূরের কোণে। এগিয়ে যায় কাতালানরা।
সেই লিড অবশ্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় বার্সা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সমতা ফেরান রিয়ালের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঝমাঠের কাছ থেকে বল নিয়ে গতি বাড়িয়ে উইং দিয়ে উঠে দুই বার্সা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন তিনি।
সমতা ফিরিয়েও সেটি ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই পেনাল্টি এলাকায় জায়গা পেয়ে দারুণ এক চিপ শটে আবারও বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন রবার্ট লেভানদোভস্কি।
নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি প্রথমার্ধের। যোগ করার সময়ের শেষ দিকে আবারও সমতায় ফেরে রিয়াল। এক কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে রাফিনহা গোললাইন থেকে রক্ষা করলেও রিবাউন্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েন গনসালো গার্সিয়া। তার শট ক্রসবারে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে। বিরতিতে যাওয়ার আগে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
দ্বিতীয়ার্ধের ৭৩ মিনিটে ম্যাচের নায়ক বনে যান রাফিনহা। বক্সের কিনারায় বিপজ্জনক অবস্থান থেকে শট নেন তিনি। সামান্য পিছলে গেলেও রিয়াল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বলের দিক বদলে যায়, ভুলপথে পড়েন গোলকিপার থিবো কুর্তোয়া, আর জালে জড়ায় বল।
৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন বার্সেলোনা। এরপরও ৯০ মিনিট পেরোনোর পর আবারও উত্তেজনা চরমে ওঠে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং।
১০ জনের দলে পরিণত বার্সা চাপে পড়ে ১১ জনের রিয়ালের সামনে। তুমুল চাপ প্রয়োগ করলেও জাবি আলোনসোর শীষ্যরা সমতা ফেরাত পারেনি।
শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনাই ধরে রাখে লিড, জিতে নেয় নিজেদের ১৬তম স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা।
আইএন