প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে গণভোটের প্রচারণার ব্যানার টানানো হয়েছে। সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনের সঙ্গে ঝুলছে ব্যানারগুলো।
এরইমধ্যে নির্বাচন পর্যন্ত গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনে ব্যানারগুলো দেখা যাচ্ছে।
সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের সামনের দিকে ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টানানো ব্যানারে লেখা আছে, গণভোট ২০২৬: সংসদ নির্বাচন
আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে-
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে।
• সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।
• সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।
• বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
• যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
• সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে।
• ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
• দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
• আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে।
• দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।
• রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।
‘হ্যাঁ’-ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন। না-ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনারই হাতে।
৩ নম্বর ভবনের পূর্ব পাশে এবং ৪ নম্বর ভবনের সামনে, ৭ নম্বর ভবনের সামনেও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এমন ব্যানার দেখা গেছে।
দেশের চাবি আপনার হাতে, পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন ব্যানারও ৬ নম্বর ভবনে টানানো হয়েছে।
এছাড়া সচিবালয়ের ৪ ও ৬ নম্বর ভবনের সংযোগ সেতুতে থাকা এবং নতুন ১ নম্বর ভবনের সামনে ডিজিটাল স্ক্রিনেও গণভোটের প্রশ্নগুলোসহ হ্যাঁ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করে প্রচারণা চলছে।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কাছে সরকারি যোগাযোগে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং প্রচারণা সংক্রান্ত ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চিঠিতে জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবসমূহের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
সব সরকারি যোগাযোগে (পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র ইত্যাদি) নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দুটি খাড়া ব্যানার প্রতিষ্ঠান প্রধানরা স্ব-উদ্যোগে প্রিন্ট করে অফিসের সামনে দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শন করলে সেবাগ্রহীতা এবং জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা পাবে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি রয়েছে বললেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এমতাবস্থায়, সব সরকারি যোগাযোগে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং তার আওতাধীন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দুটি করে খাড়া (ভার্টিক্যাল) ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে।
আরএমএম/এসএনআর/এমএস