রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন পরিকল্পিতভাবে বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে শিবির সমর্থিত ‘বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদ’ প্যানেলের প্রার্থীরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় মিডিয়া চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেরোবে শিক্ষার্থী পরিষদের প্রার্থীরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিবির সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রাণের চাওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন। এটি আমাদের অধিকার শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর ও প্রতিনিধিদের প্লাটফর্ম। জুলাই বিপ্লবের পরে বেরোবি শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছিল এই লক্ষ্যে আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মিছিল এবং সর্বশেষ বাধ্য হয়ে অনশনে বসেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন সংযুক্তির পরও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রাকসু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, একের পর এক কমিশনের পদত্যাগ, নতুন কমিশন গঠন ও পুনরায় পদত্যাগের মাধ্যমে ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে ব্রাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই আমরা মনে করি। এই পর্যন্ত ৪ বার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রত্যেকবারেই কোনো না কোনো অজুহাতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। কখনো ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার অযুহাতে, কখনো প্রশাসনিক জটিলতা। আবার কখনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তথাকথিত অযুহাতে পদত্যাগের নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে ছাত্রসংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে।
মেহেদী হাসান বলেন, এখন ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের শুরু থেকেই শঙ্কা ছিল প্রশাসন এবং কমিশনার ধাপে ধাপে সময়ক্ষেপণ করে শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের পরে নিয়ে যাবেন। এজন্য আমরা নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রশাসন ডিসেম্বর, পরে আবার জানুয়ারি এবং তাদের প্রি-প্ল্যান ফেব্রুয়ারিতে তারিখ নির্ধারণের প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি বলেন, অযথা ইচ্ছাকৃত সময়ক্ষেপণ করে শিক্ষার্থীদের দাবি ব্রাকসু আজ অনিশ্চয়তার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, শিক্ষা, গবেষণা, নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত সুন্দর একটি ক্যাম্পাস বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ব্রাকসু যাত্রা শুরু করবে এটিই সবার প্রত্যাশা।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এখন অল্প দিনে সব কাজ করা সম্ভব নয় বলছেন কমিশন। তাহলে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ১১ জানুয়ারি কেন সময়ক্ষেপণ করা হলো, এর দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।
শিবির সমর্থিত এই জিএস পদপ্রার্থী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আর কোনো নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে ব্রাকসু নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে লাগাতার আন্দোলনে নেমে যাবে। আমরা আশা করব, কোনো যদি কিন্তু ছাড়া এবার ব্রাকসু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে ৷
মো. আজিজুর রহমান/কেএইচকে/এএসএম