অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণ এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানের জন্য অধিকসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবে ও জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে আকিয়ে আবে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
বিনিয়োগ, গবেষণা ও জনশক্তি রপ্তানিবৈঠকে উভয় পক্ষ বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং জাপানে কেয়ারগিভার (সেবাকারী) ও নার্স নিয়োগের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের জন্য এই খাতগুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
আকিয়ে আবে সামুদ্রিক দূষণ রোধে সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে যেন কোনোভাবেই আবর্জনা ফেলা না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আশা করি ভবিষ্যতে এ নিয়ে কার্যকর কিছু করতে পারবো।’
এছাড়া তিনি সমুদ্র দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
টোকিও সফর ও মৎস্যগ্রাম স্থাপনপ্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে টোকিও সফরে যাবেন। সেখানে তিনি জাপানের মর্যাদাপূর্ণ সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নেবেন।
তার আমন্ত্রণে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম উপকূলে নবগঠিত মহেশখালী-মাতারবাড়ী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করেছে। এই চুক্তির আওতায় উপকূলীয় এলাকায় তিনটি মডেল মৎস্যগ্রাম স্থাপন করা হবে।
জাপানে কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, জাপানে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার এরই মধ্যে হাজার হাজার নার্স ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী জাপানে পাঠাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়াতে আকিয়ে আবে ও জাপানি প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে জাপানের শীর্ষস্থানীয় জৈবজ্বালানি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ইউগ্লেনার প্রতিষ্ঠাতা মিতসুরু ইজুমোও অংশ নেন। তিনি সামাজিক ব্যবসাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে বাংলাদেশে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচন শেষে তিনি তার পূর্ববর্তী কাজে ফিরে যাবেন।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কিংবা কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণের তার কোনো ইচ্ছা নেই। বরং তিনি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং তার ‘থ্রি-জিরো বিশ্ব’ ধারণা- শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ এবং শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়নে কাজ করতে চান।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
এমইউ/একিউএফ/এএসএম