কাশ্মীরের শাক্সগাম উপত্যকা নিয়ে ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘শাক্সগাম উপত্যকা চীনের অংশ’ এবং সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন চালানো তাদের বৈধ অধিকার।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘আপনি যে ভূখণ্ডের কথা বলছেন, সেটি চীনের। নিজের ভূখণ্ডে অবকাঠামো নির্মাণ করা চীনের পুরোপুরি ন্যায্য অধিকার।’
সম্প্রতি শাক্সগাম উপত্যকায় চীনের অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে ভারতের আপত্তির প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন>>অরুণাচলের আরও ২৭ জায়গার নতুন নাম দিলো চীন, তীব্র প্রতিক্রিয়া ভারতেঅরুণাচলের কাছে ৩৬টি বিমান বাংকার বানিয়েছে চীন, চরম উদ্বেগে ভারতঅরুণাচলকে ভারতের অংশ বলায় চীনে ভারতীয় ইউটিউবার আটকঅরুণাচলকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে চায় চীন: পেন্টাগনের প্রতিবেদন
এর আগে, গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, শাক্সগাম উপত্যকা ভারতের ভূখণ্ড। তাই সেখানে চীনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার নয়াদিল্লির রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ১৯৬৩ সালে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া তথাকথিত সীমান্ত চুক্তিকে কখনোই স্বীকৃতি দেইনি। এটি অবৈধ ও অকার্যকর।
একই সঙ্গে তিনি চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি)-কেও স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বিষয়টি পাকিস্তান ও চীনকে বহুবার জানানো হয়েছে। শাক্সগাম উপত্যকায় ‘ভূখণ্ডের বাস্তবতা বদলানোর চেষ্টা’ নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে বলেও দাবি করে নয়াদিল্লি।
China has dismissed India’s claim over the Shaksgam Valley in KashmirChina’s Foreign Ministry stated that the territory belongs to China and said it is fully within its rights to carry out infrastructure development on its own landModi is silent pic.twitter.com/wB1j58DSR1
— Dr Nimo Yadav 2.0 (@DrNimoYadav) January 13, 2026 চীন-পাকিস্তান চুক্তির যুক্তিভারতের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে চীনের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, চীন ও পাকিস্তান ১৯৬০-এর দশকে একটি সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশের সীমা নির্ধারণ করেছিল, যা দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকার।
তিনি বলেন, সিপিইসি একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ, যার লক্ষ্য স্থানীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করা।
মাও নিং আরও বলেন, চীন–পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি ও সিপিইসি কাশ্মীর বিষয়ে চীনের অবস্থানকে প্রভাবিত করে না। আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে (লাদাখের গালওয়ান) সংঘর্ষে ভারতের ২০ ও চীনের চার সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়। তবে ২০২৪ সালে সামরিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।
এরপর থেকে সরাসরি প্লেন চলাচল ফের শুরু, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নত হয়েছে।
তবে ভূখণ্ড ইস্যুতে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে চীন ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে আসছে, যা নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। চীনের পক্ষ থেকে ওই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করাও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: ডন, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেএএ/