দেশজুড়ে

স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে সন্তানদের নিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়িতে ২ নারী

পটুয়াখালীর দশমিনার রনগোপালদী ইউনিয়নের সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেলের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে সন্তানদের নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন দুই নারী। তাদের দুজনেরই তিন বছরের একটি করে সন্তান রয়েছে।

রোববার (১৪ জানুয়ারি) তারা সন্তানদের নিয়ে নওফেলের বাড়িতে যান। বর্তমানে ওই ইউনিয়নের মহিলা সদস্যের জিম্মায় রয়েছেন তারা।

নওফেল রনগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ওই ইউনিয়নের দেলোয়ার রাড়ির ছেলে।

ভুক্তভোগী নারী শেফালি বেগম ও সুমাইয়া (ছদ্মনাম) জানান, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কাবিননামা রেজিস্ট্রির মাধ্যমে নওফেল তাদের বিয়ে করেন। তাদের একজনের বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অন্যজনের বরিশালের কদমতলীতে। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় নওফেল তাদের বাবার বাড়ি ও ভাড়া বাসায় রাখেন।

তাদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে নওফেল কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় তারা গত রোববার স্বামীর বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে আসেন। একজনের তিন বছরের একটি মেয়ে নওরিন ও অন্যজনের তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের অনুপস্থিতিতে নওফেল গলাচিপা উপজেলার এক নারীকে বিয়ে করেছেন।

ভুক্তভোগী দুই নারীর দাবি, বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে নওফেল তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেন ও সন্তানদেরও আঘাত করেন। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করেন। পরে দশমিনা থানা পুলিশ ও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে জানানো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য লিপির জিম্মায় তাদের রাখা হয়েছে। তবে সেখানে থেকেও বিভিন্নভাবে চলে যাওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ওই দুই নারী।

ভুক্তভোগী নারীরা আরও জানান, নওফেলের নেশা একাধিক বিয়ে করা ও পরকীয়ার মাধ্যমে নারীদের ফাঁসানো। এর আগেও তিনি বহু নারীকে বিয়ে ও তালাক দিয়েছেন বলে তাদের দাবি।

তারা বলেন, ‘আমাদের গর্ভে তার দুটি সন্তান জন্মেছে। সন্তানেরা বড় হলে বাবার পরিচয় কোথায় পাবে? আমরা স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি চাই। তা না পেলে আইনের আশ্রয় নেব।’

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান নওফেলের বাবা দেলোয়ার রাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তারা জানান, তিনি বলেছেন এর আগেও অনেক নারী এসেছিল, তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেল বলেন, ‘এটি পারিবারিক বিষয়। আমরা পারিবারিকভাবেই সমাধান করার চেষ্টা করছি।’

রনগোপালদী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং পপি ও মিমের মতামতের ভিত্তিতে তাদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের বাসায় রাখা হয়।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীরা সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তারা চাইলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

মাহমুদ হাসান রায়হান/এমএন/এমএস