ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানো এবং ৪ আগস্ট একজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে। এখন আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১৮ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
এর আগে, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে শুনানি ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। সেদিন আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে ,গত ৫ জানুয়ারি এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ২ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়।
এর আগের দিন একজন শহীদ হন। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
এফএইচ/এমএমকে