দেশজুড়ে

শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে ম্যারাথন

শেরপুরে স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষে শিশুদের ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, মাদ্রাসাপড়ুয়া ও পিছিয়ে পড়া শিশুসহ প্রায় ছয় শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে শেরপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতাটির উদ্বোধন করা হয়। রানবাংলা ও শেরপুর রানার্স কমিউনিটির সহযোগিতায় ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন্স’ (এইমস) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্সের সাবেক সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম, শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, রবেতা ম্রং, রানবাংলার প্রতিষ্ঠাতা মো. রাজীব হোসেন, শেরপুর রানার্স কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা মো. আল আমিন সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এ দৌড় প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার, ৫০০ মিটার ও ১ হাজার মিটার- এ তিনটি ক্যাটাগরিতে ২ থেকে ১৪ বছর বয়সি প্রায় ৬০০ শিশু অংশ নেয়। রেজিস্ট্রেশন ফি ছিল ৫৪ টাকা। প্রতিযোগীদের মধ্যে অর্ধেকই ছিল শেরপুরের গারো পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী, বেদে ও হরিজন পল্লীর শিশুরা। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসার শিশুরাও এতে অংশ নেয়।

তারা জানান, প্রত্যেক প্রতিযোগী শিশুর জন্য ছিল জার্সি, মেডেল, খাবার ও উপহার। দৌড় শেষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করা হয়। শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, প্রতিযোগিতাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়েছে। শিশুরা আনন্দের সঙ্গে অংশ নিয়েছে। এজন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। প্রতিবছর এমন আয়োজন হলে আমাদের বাচ্চারা ক্রীড়াবিদ হতে উৎসাহিত হবে।

শেরপুর রানার্স কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা ও রেস ডিরেক্টর মো. আল-আমিন সেলিম বলেন, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশসহ সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে ছোট থেকেই তাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই আমাদের এমন আয়োজন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া বাচ্চারাও যাতে বাদ না পড়ে, সেজন্য সকল কমিউনিটি থেকেই শিশুদের বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে।

রানবাংলার প্রতিষ্ঠাতা মো. রাজীব হোসেন বলেন, এর আগে এইমসের কিডস রান ঢাকায় হয়েছে। এবার সেটি আরও ছড়িয়ে দিতে শেরপুরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। গারো, হাজং, কোচ, বেদেপল্লী, হরিজনপল্লীসহ মোট ১৩টি কমিউনিটির শিশুরা শেরপুরের এই ম্যারাথনে অংশ নিয়েছে।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, এমন আয়োজন শিশুদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এটি শিশুদের জন্য খুবই ফলপ্রসূ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে/এমএস