লাইফস্টাইল

কিছুদিন প্রেমে পাগল, তারপর কেন আর ভালো লাগে না

প্রেম হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বলা, ‘তোমায় ছাড়া আমি বাঁচব না’-কথাটা শুনে প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও ভালো লাগা স্বাভাবিক। এরপর আসে অসংখ্য মেসেজ, বারবার ফোন, প্রায়ই দেখা করা এবং মুখে বড় বড় পরিকল্পনার কথা বলা। মনে হয় যেন কোনো রোমান্টিক সিনেমার চিত্রনাট্যে ঢুকে পড়েছেন।

কিন্তু প্রাথমিক মোহ কাটার পর আচরণে পরিবর্তন হতে শুরু করে। এত প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস-সব যেন ধীরে ধীরে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। তখন প্রশ্ন জাগে, ভালোবাসার এমন প্রকাশকরা কতটুকু স্বাভাবিক? নাকি কোথাও নিজের কোনো ভুল ছিল? এই বিভ্রান্তি কাটাতে সময় লাগে।

ফিউচার ফেকিং কী?এই অভিজ্ঞতার পোশাকি নামই হলো ফিউচার ফেকিং। সম্প্রতি পপুলার কালচার ও সাইকোলজিতে এটি খুবই পরিচিত শব্দ। এই আচরণে সম্পর্কের স্বাভাবিক গতি উপেক্ষা করে খুব তাড়াতাড়ি ভবিষ্যৎ, সংসার কিংবা আজীবন একসঙ্গে থাকার কথা বলা হয়।

মনোবিদেরা বলেন, এমনভাবে আবেগ এবং স্নেহ প্রকাশ করা, যাকে লাভ বম্বিং বলা হয়। বিপরীত পাশে মানুষটিকে মনে করায়, তিনি অন্যের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে সেই অনুভূতির ভিত্তি থাকে না। অনেক সময় এটি নিজের একাকিত্ব ঢাকতে বা সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা অনুভব করতে ব্যবহৃত হয়।

কেন ফিউচার ফেকিং হয়?মনোবিদদের মতে, ফিউচার ফেকিং সবসময় সচেতন প্রতারণা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এটি আসে ভেতরের অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে। সম্পর্কের শুরুতেই ব্যক্তিগত সীমারেখা স্পষ্ট রাখা এবং ধীরে এগোনো জরুরি।

সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য থাকে। দু’জনেরই নিজস্ব স্পেস থাকে, পারস্পরিক সম্মান থাকে। প্রত্যেকে নিজের পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী চলতে পারে এবং ব্যক্তিসত্তা প্রকাশ করতে পারে। সুস্থ সম্পর্ক মানুষকে একে অপরকে চেনার এবং ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেয়। ফিউচার ফেকিং সেখানে চাপ সৃষ্টি করে, সবকিছু দ্রুত ঠিক করে ফেলতে বাধ্য করে।

ফিউচার ফেকিং-এর লক্ষণফিউচার ফেকিং করা মানুষ প্রায়ই বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু তা বাস্তবে পূরণ হয় না। তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সীমা এড়িয়ে চলে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ফলো-থ্রু চাইলে দোষারোপ বা বিষয় উপেক্ষা করেত দেখা যায়। বাস্তব দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে আবেগঘন কথা বেশি করে। কখনো কখনো তারা ব্যর্থতার জন্য আপনাকে দায়ী করে। সম্পর্কটি যেন চিরকালই ‘কোন একদিন’ পর্যায়ে আটকে থাকে।

যেভাবে মোকাবেলা করবেনযদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, এক ধাপ পিছিয়ে সম্পর্কটি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করুন। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ঠিক করুন এবং অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতির জোয়ারে ভেসে যাবেন না। লক্ষ্য করুন-আপনার সঙ্গী কি বাস্তবে কাজ করছে, নাকি শুধু নতুন নতুন আশ্বাস দিচ্ছে। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন। প্রয়োজনে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করুন বা দূরে সরে আসুন।

মনে রাখবেন, আপনি এমন একজন সঙ্গীর যোগ্য, যিনি শুধু ভবিষ্যতের কথা বলেন না, বরং সেই ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বও নেন।

সূত্র: এনডিটিভি, ভেরিওয়েল মাইন্ড আরও পড়ুন: কীভাবে একজন ভালো সঙ্গী হয়ে উঠবেন প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা কি আসলেও সম্ভব 

এসএকেওয়াই/