রাজবাড়ীতে গাড়িচাপায় পেট্রল পাম্পের শ্রমিক রিপন সাহার (৩০) নিহতের ঘটনায় তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে চারটার দিকে গোয়ালন্দ মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরে রাতেই নিহত রিপন সাহার ছোট ভাই প্রদীপ সাহা দুইজনকে আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি হত্যা ও প্রতারণা মামলা করেন। রিপন রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর সাহাপাড়া এলাকার পবিত্র সাহার ছেলে।
জানা গেছে, রিপন সাহা ছিলেন অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ৪ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। কাজ করতেন গোয়ালন্দ মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশন (পেট্রল পাম্প) এর তেল সরবরাহকারী হিসাবে। তার আয়ের টাকায় চলতো সংসার ও বাবা-মায়ের ওষুধসহ যাবতীয় খরচ। সেই তেল সরবরাহের টাকা নিতে গিয়েই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন তিনি।
পেট্রল পাম্প শ্রমিক ও নিহতের পরিবারের দাবি, রিপনকে গাড়ির নিচে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ৫ হাজার টাকার তেল নিয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার সময় রিপন দৌড়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ালে তাকে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার পর পেট্রল পাম্পের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গাড়ির মালিক রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঠিকাদার আবুল হাসেম সুজনকে রামকান্তপুর ও গাড়ির চালক কামাল হোসেনকে বানিবহ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় করিম ফিলিং স্টেশন (পেট্রল পাম্প) তেল নিতে আসে একটি কালো রঙের জিপগাড়ি । ওই সময় গাড়ির ভেতর থেকে নেমে আসেন পদত্যাগকৃত রাজবাড়ী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ঠিকাদার আবুল হাসেম সুজন। তখন পাম্প শ্রমিক রিপন সাহা ৫ হাজার টাকার তেল সরবরাহ করেন। এক পর্যায়ে তেলের টাকা না দিয়ে গাড়িটি পালিয়ে যেতে গেলে তাদের ধরতে গাড়ির পেছনে দৌড় দেয় রিপন সাহা। এরকিছু সময় পর পাম্পের সামনের সড়কে রিপন সাহার মুখ ও মাথা থেতলানো মরদেহ পরে থাকতে দেখা যায়।
মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই প্রদীপ সাহা বলেন, কিভাবে গাড়িচাপা দিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। সিসি টিভি ফুটেজে পুলিশসহ সবাই দেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি, তারা গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় দুইজনের নামে মামলা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
রুবেলুর রহমান/এনএইচআর/জেআইএম