লাইফস্টাইল

সন্তানের সঙ্গে সংঘাত ও যুদ্ধ নিয়ে কথা বলার পরামর্শ দিলো ইউনিসেফ

বিশ্বব্যাপী আমরা এখন এক অস্থির ও সংঘাতময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দেশ ও বিদেশের যুদ্ধ-সংঘাতের খবর এখন টেলিভিশন ও ফোনের স্ক্রিনে সবসময় উপস্থিত। পরিবারের শিশুদের সামনেও এসব সংবাদ ও কনটেন্ট উন্মুক্ত।

এসব দেখে শিশুদের মনে অনেক ধরনের প্রশ্ন ও অনুভূতি জন্মায় — ভয়, দুঃখ, ক্ষোভ বা উদ্বেগ। এমন সময়ে তাদের নিরাপদ বোধ করানো অভিভাবকের দায়িত্ব। সেই সঙ্গে পৃথিবীর এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের জানানোও জরুরি।

কিন্তু এমন একটি জটিল বিষয় নিয়ে কীভাবে শিশুর সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে ইউনিসেফ। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১. প্রথমে জানুন তারা কী জানে ও কেমন অনুভব করছে

যুদ্ধ বা সংঘাতের বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিবারে সবার জন্য স্বস্তির জায়গা বেছে নিন, যেমন —খাবারের সময় বা পারিবারিক আড্ডা। প্রথমেই জিজ্ঞাসা করুন, ‘তুমি কি এই বিষয়টিতে কিছু শুনেছো?’ বা ‘এটা জেনে তুমি কেমন অনুভব করছ?’

বাচ্চারা অনেক সময় অনলাইন, টিভি, বন্ধুদের কথা থেকে ভুল তথ্য পেতে পারে। তাই এসময় তাদের শোনা ভুল তথ্য ঠিক করে দেয়া দরকার।

২. শান্ত ও বয়স উপযোগী ভাষা ব্যবহার করুন

শিশুরা জগতের খবর জানতে পারে, তবে অতিরিক্ত ভয় দেখানো বা জটিল তথ্য তাদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। তাই সহজ ভাষায় কথা বলুন। আপনার সন্তানের বয়স অনুযায়ী তার বোঝার মতো করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করুন।

মনে রাখবেন, শিশু আপনার অনুভূতি খেয়াল করে নিজের অজান্তেই সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা ওই বিষয়ে কেমন অনুভব করবে। তাই নিজের ভয় বা দুশ্চিন্তা প্রকাশ কম করুন।

৩. সহানুভূতি ছড়ান, বিদ্বেষ নয়

সমস্যা যখন বড় দেশের বা দূরের ঘটনার, তখন ভাল বা খারাপ জাতীয় লেবেল না দিয়ে শিশুদের শেখান অন্যদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে। যারা যুদ্ধের কারণে নিজ ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে বা কষ্টে আছে — তাদের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করুন।

৪. সহায়তা ও ইতিবাচক গল্প শোনান

এমন কঠিন সময়ে যারা ভুক্তভোগীদের জন্য কাজ করছে, সাহায্য করার চেষ্টা করছে – তাদের গল্প শিশুদের জানান। এটা তাদের মানসিক শক্তি বাড়ায়। বলুন, অনেক মানুষ, ডাক্তার ও সহায়তাকারীরা শান্তি ও সহায়তায় কাজ করছে। এসব গল্প শুনে সন্তানের মনে যে অনুভূতি হয়, তা ছবি একে প্রকাশ করতে উৎসাহ দিতে পারেন।

৫. কথা শেষ করুন যত্ন নিয়ে

আলোচনা শেষ করার সময় তাদের মনের অবস্থা খেয়াল করুন। স্বাভাবিক কণ্ঠে কথা বলছে কি না দেখুন। সন্তানকে জানান যে, তারা যেকোনো সময় আপনার কাছে এসে কথা বলতে পারে।

৬. নিয়মিত খেয়াল রাখুন

এটি একটি আলোচনায় শেষ হওয়ার বিষয় না। সন্তানের সঙ্গে সময়মতো আবার কথা বলুন। জিজ্ঞেস করুন - নতুন কোনো প্রশ্ন আছে কিনা? তারা কি উদ্বিগ্ন? তাদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন, যেমন - ঘুমে সমস্যা, মাথাব্যথা বা দুশ্চিন্তা। যদি দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যা লক্ষ করেন, তাহলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

৭. খবরের প্রবাহ সীমিত করুন

নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের সংবাদ ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট সীমিত করুন। আর যদি বড় বাচ্চারা দেখে, তাদের সঙ্গে কথা বলুন কোন তথ্য নেয়া উচিত ও কোনটা ভুল হতে পারে।

সন্তানের সঙ্গে এমন জটিল বিষয়ে আলোচনা করার আগে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলে নিন। অভিভাবকরা একই টোনে কথা বললে সন্তান আশ্বস্ত অনুভব করবে।

সূত্র: ইউনিসেফ প্যারেন্টিং

এএমপি/জেআইএম