দেশজুড়ে

গ্রেফতারের ভয়ে পরিষদে আসেন না চেয়ারম্যান, সেবা পেতে ভোগান্তি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। ছাত্রজীবন থেকেই মাসুদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার দাপট ছিল।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই তিনি আড়ালে চলে যান। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন। এখনো গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসাই বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

এক মাস ধরে জন্মনিবন্ধন করতে ঘুরছেন উত্তরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন। প্রতিদিনই এসে দেখেন চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। কবে আসবেন চেয়ারম্যান তার কোনো উত্তরই পাচ্ছেন না তিনি।

চেয়ারম্যানের একটি সই পেতে মকবুল হোসেনের মতো তালুককানুপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মথুরাপুর গ্রামের গৃহিণী পারভীন বেগম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহডাংগা গ্রামের বৃদ্ধ আলম মিয়া তাদের কাজের জন্য পরিষদে ঘুরছেন দিনের পর দিন।

স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না মাসুদ আলম মন্ডল। ফলে ইউপি চেয়ারম্যানের একটি সইয়ের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ৯টি ওয়ার্ডের তেলিয়া, দামোদরপুর, ফুলবাড়ি, ছোট নারায়ণপুর, ছোট নারিচাগাড়ী, বেড়া মালঞ্চ, চিয়ারগ্রাম, দেবপুর, সিংহডাংগা, উত্তরপাড়া, চক শিবপুর, রাঘবপুর, কাপাসিয়া, তালুককানুপুর, নোদাপুর, সমসপাড়া, চন্ডিপুর, তাজপুর, সুন্দইল, উত্তর ছয়ঘড়িয়া, কমল নারায়ণপুর, বড় নারায়ণপুর, মথুরাপুর গ্রাম রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের অফিসগুলোতে তালা ঝুলছে। দুজন গ্রাম পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন। সাধারণ মানুষেরা জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, নাগরিক সনদ, স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নের জন্য আসছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান না থাকায় কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।

সেবা নিতে আসা মমতা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সনদের জন্য পরিষদে আসছি। তবে চেয়ারম্যান পরিষদে না আসায় আমার কাজ হচ্ছে না।’

ইয়াকুব আলী বলেন, ‘ছেলের জন্ম নিবন্ধনের জন্য এসেছিলাম। তবে পরিষদে চেয়ারম্যান নেই। তাই ঘুরে যাচ্ছি।’

ইউনিয়নের আরেক বাসিন্দা সালাম মিয়া বলেন, ‘চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ করতো। পুলিশ এখন আওয়ামী লীগকে ধরছে। সেই ভয়ে পরিষদে আসেন না। ভোটের আগে আসবে বলে মনে হচ্ছে না।’

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাসুদ রহমান বলেন, ‘চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্রাম আদালত, মাসিক মিটিংসহ পরিষদের অন্যান্য কার্যক্রম। অনেকেই এসে ফিরে যাচ্ছেন। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ‘সময়তো খারাপ। আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লেখেন। কয়েকজন মেম্বার আমার পেছনে লেগেছে। সময় এলেই সব কিছুর জবাব দেবো।’

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টা জানতে পেরেছি। আমরা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

আনোয়ার আল শামীম/এসআর/জেআইএম