ধাপে ধাপে ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে তেহরানে এএফপির কার্যালয় থেকে সীমিতভাবে ইন্টারনেটে সংযোগ পাওয়া গেলেও, দেশটিতে বেশিরভাগ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ইন্টারনেট এখনো বন্ধ রয়েছে।
এই সীমিত সংযোগ কেন সম্ভব হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার থেকে আন্তর্জাতিক কল করা সম্ভব হচ্ছে এবং শনিবার সকালে এসএমএস সেবা পুনরায় চালু করা হয়।
শনিবার রাতে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে যে ইন্টারনেট সংযোগও ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করা হবে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
একটি অজ্ঞাত বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম জানায়, ইরানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে (ইন্ট্রানেট) স্থানীয় মেসেজিং অ্যাপগুলো শিগগিরই সক্রিয় করা হবে।
দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আহ্বান বাড়তে থাকায় এই নজিরবিহীন যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আরোপ করা হয়।
কয়েকদিন ধরে টেক্সট মেসেজ ও আন্তর্জাতিক ফোন কল—এমনকি কখনো কখনো স্থানীয় কলও—বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এই সময় ইরান মূলত তার নিজস্ব ইন্ট্রানেটের ওপর নির্ভর করেছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইট, রাইড-হেইলিং অ্যাপ, ডেলিভারি সেবা ও ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম চালু ছিল।
ইন্টারনেট বন্ধের আগেই ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), টেলিগ্রাম ও ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলো ইরানে নিষিদ্ধ রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করতে ভিপিএন প্রয়োজন হয়।
এবারের এই বিক্ষোভকে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর হওয়া দীর্ঘ আন্দোলনের পর ইরানি নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানি কর্মকর্তারা এখনো কোনো নির্দিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা জানাননি। তবে নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কমপক্ষে ৩ হাজার ৪২৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য তারা যাচাই করেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, বিক্ষোভ শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল, পরে তা দাঙ্গায় রূপ নেয়, যেখানে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়।
কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ বিদেশি শক্তির প্রভাবকে দায়ী করেছে।
শনিবার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এজেন্টদের উসকানিতে সংঘটিত সহিংসতায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম